Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আনন্দপুরে মৃত্যুমিছিল,উদ্ধার ২১ জনের দেহাংশ

আনন্দপুর লাগোয়া নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কেটে গিয়েছে দু’দিনেরও বেশি সময়।

আনন্দপুরে মৃত্যুমিছিল,উদ্ধার ২১ জনের দেহাংশ
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: আনন্দপুর লাগোয়া নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কেটে গিয়েছে দু’দিনেরও বেশি সময়। জতুগৃহ জোড়া গোডাউনের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে পুরোদমে। যত বেশি ভাঙা লোহা, অ্যাসবেস্টাস সরানো হচ্ছে, ততই যেন নিখোঁজ কর্মীরা বদলে যাচ্ছেন মৃতের তালিকায়। মঙ্গলবার ৮ জনের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই সংখ্যা বুধবার বেড়ে হয় ২১। এমনটাই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মৃত ২১। নিখোঁজের সংখ্যা এখন ছয়। দিন ডেকোরেটার্স সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাসকে বারুইপুর আদালতে তোলা হয়েছিল। বিচারক ধৃতকে আটদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই আবর্তেই সহকর্মীদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সক্রিয় হয়েছে নামী ওই মোমো সংস্থা। এদিন সংস্থার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, তাদের দুই কর্মী এবং এক নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী সহ যে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত প্রতিমাসের বেতনও পাবে পরিবার। এমনকি মৃত তিনজনের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্বও বহন করা হবে।

Advertisement

এদিন সকাল থেকেই কলকাতা পুরসভার ডেমোলিশন টিমের সদস্যরা দুমড়ে মুচড়ে পড়া লোহার কাঠামো, ফাটল ধরা দেওয়াল ভাঙার কাজ শুরু করেছিলেন। এই কাজ করার সময় বেশ কিছু দেহাংশ পাওয়া যায়। সূত্রের খবর, ২১টির মধ্যে মাত্র একটি আধ পোড়া দেহ মিলেছে। তবে কাদের দেহাংশ সেটা বোঝার উপায় নেই। তাই যাঁরা কর্মরত ছিলেন এই দুই গোডাউনে, এমন ২৭ জনের পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যের রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছে বারুইপুর হাসপাতালে। সেটা দিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। জানা গিয়েছে, এদের মধ্যে ২১ জন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এখন চরম উৎকণ্ঠা ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দুদিন পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবুও চাপা থাকা ধ্বংসস্তূপ সরালেই মাঝে মধ্যে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। গোডাউনের ঢোকার গলির মুখ থেকে এখনো পোড়া গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া মোমো প্রস্তুতকারী কোম্পানি ও ডেকরেটার্স সংস্থার গোডাউন দেখতে এদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লেগেইছিল। কেউ নিজের সন্তানকে স্কুল থেকে বাড়ি আনার পথে ঘুরে যাচ্ছেন, কেউ বা কাজ সেরে একবার এসে মর্মান্তিক ঘটনার স্থল চাক্ষুষ করে যান।

ডেকোরেটার্স সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাসকে এদিন আদালতে তোলার পর  ১০ দিন হেপাজতের আবেদন জানায় পুলিশ। উল্টোদিকে জামিনের আর্জি জানান গঙ্গাধরের আইনজীবী।

দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে বিচারক তাঁকে আটদিনের জন্য পুলিশ হেপাজতে পাঠিয়েছেন। অভিযুক্তের আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বয়স প্রায় ৭২ বছর এবং তিনি একাধিক শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ২০২৩ সালে তাঁর গোডাউনটি  ভাড়ায় দেওয়া হয়। ভাড়াটিয়ার বেআইনি কাজের ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখানে অভিযুক্তের কোনও ভূমিকা নেই। অন্যদিকে সরকারি কৌঁসুলি সামিউল হক জানান, ওই প্রাঙ্গণে দু’টি সংস্থা কাজ করছিল। একটি সংস্থার গুদামের দায়িত্বে ছিলেন অভিযুক্ত নিজেই। সেখানে এলপিজি সিলিন্ডার, কাপড় ও একাধিক দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। মালিক হিসেবে এই দায় এড়ানো যায় না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ