সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: হাতির উপদ্রব থেকে সুপারি গাছ বাঁচাতে বাগানের চারপাশে বেআইনিভাবে বিদ্যুতের তারের ফেন্সিং দেওয়া হয়েছিল। আর সেই ফেন্সিংয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রবিবার রাতে কালচিনি ব্লকের বিজয়পুর বস্তিতে একটি পূর্ণবয়স্ক মাকনা হাতির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় বনদপ্তর বাগান মালিক কালে সোনোয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের এডিএফও নভজিৎ দে বলেন, সোমবার ধৃতকে আদালতে তোলা হয়েছে। আদালত ধৃতকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।
বক্সার জঙ্গল থেকে ২০০ মিটার দূরেই কালচিনি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজয়পুর বস্তিটি। হাতিটি রবিবার রাতে ওই বৃদ্ধের সুপারি বাগানে ঢুকে পড়ে। কয়েকটি গাছও ভেঙে ফেলে। গাছ ভেঙে হাতিটি যখন বাগান থেকে বের হচ্ছিল তখনই বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে মৃত্যু হয়। সোমবার ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা বাগানে হাতিটির দেহ পড়ে থাকতে দেখে বক্সার পানা রেঞ্জে খবর দেন। খবর পেয়ে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। এদিন দুপুরেই বনকর্মীরা পানার গভীর জঙ্গলে গিয়ে হাতিটির ময়নাতদন্তের কাজ করেন।
বনদপ্তর জানিয়েছে, ধৃত বাগান মালিকের বয়স ৬৮। তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। সেজন্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে লতাবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার পর ওই বৃদ্ধকে সোমবার আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতে পাঠানো হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী অ্যাক্টে মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দু’বছর আগেও এই বিজয়পুর বস্তিতেই একইভাবে একটি পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় বনদপ্তর ও বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি যৌথভাবে এই বেআইনি বিদ্যুতের তারের বেড়ার বিরুদ্ধে এলাকায় সচেতনতা কর্মসূচি নিয়েছিল। কিন্তু তারপরেও যে মানুষের হুঁশ ফেরেনি এদিনের ঘটনাই তার প্রমাণ বলে অভিযোগ বনদপ্তরের।