নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পুজোর মুখে গুরুতর অসুস্থ এক ব্যঙ্ক অফিসারের মৃত্যু ঘিরে ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়েছে মাটিগাড়ার হিমাঞ্চল বিহারে। মৃতের নাম শিরিং ফুসরুং (৫৫)। স্থানীয়দের সন্দেহ, জ্বরে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি মশা বাহিত রোগ ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছেন। একইসঙ্গে এলাকার জঞ্জাল সাফাই নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও এসজেডিএ’র বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, মাসে মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব আদায় করলেও জঞ্জাল সাফাইয়ে নির্বিকার পঞ্চায়েত ও এসজেডিএ। এদের উদাসীনতায় গোটা এলাকা জঙ্গলে ঢেকেছে। যেখানে সেখানে জমে থাকছে বৃষ্টির জল। যা মশার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।
পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মহম্মদ সাহিদ অবশ্য বলেন, হিমাঞ্চল বিহারে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। সেখানে ভেক্টর কন্ট্রোল টিম পাঠানো হয়েছে। সেখানকার জঙ্গল সাফাই করা হবে। তবে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়। এসজেডিএ চেয়ারম্যান দিলীপ দুগার বলেন, ওই জায়গার জঞ্জাল সাফাইয়ের বিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ও মহকুমা পরিষদের সঙ্গে কথা বলব। পতিত ও নির্মীয়মাণ প্লটে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
এক সপ্তাহ আগে ওই ব্যাংক অফিসার গুরুতর অসুস্থ হন। তাঁকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের একাংশ বলেন, গত জুন মাসে ওই ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সুস্থও হয়ে ওঠেন। ১০ দিন আগে ফের জ্বর নিয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি হন। তাই মনে হচ্ছে ওই ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।
হিমাঞ্চলবিহার সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মিলন বসু বলেন, ওই ব্যক্তি আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ওঁর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানানো হয়েছে।
এদিকে, কয়েকশো বিঘা জমির উপর হিমাঞ্চল বিহার উপনগরী। এসজেডিএ’র অফিস, পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র, কলেজ, স্কুল, সরকারি বেসরকারি অফিসের আবাসন সহ ছ’শো বাড়ি রয়েছে। আছে প্রচুর পতিত জমি। কিন্তু এখানকার জঙ্গল নিয়মিত সাফাই হয় না। যত্রতত্র জমে থাকছে জল। যারফলে মশার উপদ্রব স্বাভাবিক। সম্প্রতি সকাল-সন্ধ্যা ঘরে টেকা যাচ্ছে না। এনিয়ে স্থানীয়রা পাথরঘাটা পঞ্চায়েত ও এসজেডিএ’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
হিমাঞ্চল বিহার সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বলেন, জঙ্গলে ঢেকে যাওয়ায় গোটা উপনগরী মশার আঁতুড় ঘরে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় ওই ব্যাংক অফিসারের মৃত্যুর পর উপনগরীতে ডেঙ্গুর আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নিয়মিত এসজেডিএ জমির খাজনা এবং পঞ্চায়েত সম্পত্তিকর নিচ্ছে। যা পুর এলাকার থেকেও বেশি। কিন্তু নিয়মিত জঞ্জাল সাফাই হচ্ছে না। পতিত প্লট জঙ্গলে ঢেকেছে। কোথাও নির্মাণস্থলে জমেছে বৃষ্টির জল। এসব বিষয়ে এসজেডিএ’কে চিঠির পর চিঠি দিয়েও লাভ হয়নি। তার শুধু দেখছি, দেখব বলে কাটিয়ে দিচ্ছে।
দার্জিলিং জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনও খবর নেই। সংশ্লিষ্ট উপনগরীর ঘটনাও জানা নেই। তা হলেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভেক্টর কন্ট্রোল টিমের সক্রিয়তা বাড়ানো হবে।