সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: তৃণমূল জমানায় কাটমানি-কালচার কতটা নির্মম, নিষ্ঠুর ও অমানবিক ছিল, তা ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। মৃত্যুর ক্ষতিপূরণেও ভাগ বসাতে ছাড়েননি তৃণমূল নেতারা! পালাবদলের পর খুলে পড়ছে ওইসব নেতাদের মুখোশ।
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: তৃণমূল জমানায় কাটমানি-কালচার কতটা নির্মম, নিষ্ঠুর ও অমানবিক ছিল, তা ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। মৃত্যুর ক্ষতিপূরণেও ভাগ বসাতে ছাড়েননি তৃণমূল নেতারা! পালাবদলের পর খুলে পড়ছে ওইসব নেতাদের মুখোশ।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছিলেন বুদবুদের এক যুবক। পরিবারের লোকজনকে তিন লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তারমধ্যে দেড় লক্ষ টাকা চার তৃণমূল নেতা ছলে-বলে কৌশলে আত্মসাৎ করে নেন। বাকি টাকা চাইতে গেলে ওই তৃণমূল নেতারা মৃত যুবকের বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের নামও। তৃণমূল জমানার অবসান হতেই মৃত যুবকের বাবা চার নেতার বিরুদ্ধে বুদবুদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্য আর একটি মামলায় অনুপ চট্টোপাধ্যায় নামে ওই উপপ্রধান ইতিপূর্বেই গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাফ নির্দেশ, প্রমাণ সহ তোলাবাজি ও কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ উঠলেই গ্রেপ্তার করতে হবে।
মৃত যুবকের বাবা অনিল বাউরি লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর একমাত্র ছেলে রানা বাউরি মার্বেল পাথর বসানোর কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বুদবুদের সিন্ডিকেট পাড়াতেই এক ব্যক্তির বাড়িতে ঠিকাদারের অধীনে কাজ করছিলেন রানা। তাঁকে ওই দিন আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুরষা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। অনিলবাবু পুলিশকে জানিয়েছেন, দু’দিন পরে চার তৃণমূল নেতা তাঁদের বাড়িতে আসেন। নেতারা বাড়ির মালিক এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ না করার পরামর্শ দেন। পরিবর্তে তিন লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানান। বাড়ির মালিক এবং ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনায় বসে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গ্রামের অন্যান্য ব্যক্তিরাও ছিলেন। সকলের উপস্থিতিতেই একটি কাগজে দু’পক্ষ স্বাক্ষর করেন। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি দেড় লক্ষ টাকা এনএফটির মাধ্যমে রানার পরিবারের অ্যাকাউন্টে আসে। পরে বাকি দেড় লক্ষ টাকা বাড়ির মালিকের কাছে চাইতে যান অনিলবাবু। তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তৃণমূল নেতারা দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে গিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ির মালিককে নিয়েই ওই চার তৃণমূল নেতার কাছে যান অনিলবাবু। দেড় লক্ষ টাকা চাইলে ওঁরা গালিগালাজ করে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অনিলবাবুর অভিযোগ।
পুত্রহারা অনিলবাবু এদিন বলছিলেন, ‘ওই চার নেতা এলাকা দাপিয়ে বেড়াতেন। তাঁদের মুখের উপর কথা বলার সাহস কারও ছিল না। সেই কারণে আমিও এতদিন মুখ বুজে ছিলাম।’ বিজেপি নেতা রোহিত সিং বলেন, ‘তৃণমূল নেতারা টাকার জন্য কত নীচে নামতে পারেন, তা এই ঘটনা প্রমাণ করে। ওঁরা সব কাজের জন্য তোলা আদায় করতেন। কিন্তু, মৃত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ করবেন, এটা ভাবলেই শিউরে উঠি। এদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার। অনিলবাবুকে ভালভাবেই চিনি। তিনি এতদিন সব কষ্ট সহ্য করে ছিলেন। এবার বিচার পাবেন।’ তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের দল কখনই অন্যায় কাজ সমর্থন করে না। ওঁরা যদি সত্যিই এমন করে থাকেন, তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’