Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সম্পত্তি হাতাতে জীবিত কাকার নামে ডেথ সার্টিফিকেট! অভিযুক্ত ভাইপো, শ্যামনগরে শোরগোল

শ্যামনগরের কাউগাছি এলাকার বাসিন্দা কার্তিকচন্দ্র সিংহরায়। দিব্যি বেঁচেবর্তে আছেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর পুত্র জানতে পারেন, সরকারি খাতায় তাঁর বাবা মৃত!

সম্পত্তি হাতাতে জীবিত কাকার নামে ডেথ সার্টিফিকেট! অভিযুক্ত ভাইপো, শ্যামনগরে শোরগোল
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: শ্যামনগরের কাউগাছি এলাকার বাসিন্দা কার্তিকচন্দ্র সিংহরায়। দিব্যি বেঁচেবর্তে আছেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর পুত্র জানতে পারেন, সরকারি খাতায় তাঁর বাবা মৃত! চোখ কপালে ওঠে পরিবারের সদস্যদের। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, উত্তর বারাকপুর পুরসভা থেকে কার্তিকবাবুর ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরই স্থানীয় বাসুদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কার্তিকবাবুর পরিবারের এক সদস্য। জানা যায়, কোভিড চলাকালীন কার্তিকবাবুর দাদা নিমাইচন্দ্র সিংহরায় মারা যান। অভিযোগ, সেই সময় নিমাইবাবুর পরিবারের তরফেই কার্তিকবাবুর ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয়। কীভাবে বিষয়টি প্রথম নজরে এল? কার্তিকবাবুর ছেলে সৌমিত্র সিংহরায়ের দাবি, সম্প্রতি কিছু পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করতে গিয়ে তাঁরা দেখেন যে সরকারি খাতায় কার্তিকবাবু ও তাঁর দাদা নিমাইবাবু, দু’জনেই মৃত। এই সূত্রেই সৌমিত্রবাবুদের অভিযোগ, ভুয়ো শংসাপত্র দেখিয়ে তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কার্তিকবাবু নিজে এই খবর শুনে হতবাক। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘এ আবার হয় নাকি! জমিজমা, সম্পত্তির কারণে মানুষ এত নীচে নামতে পারে! জীবিত মানুষকে মৃত বানিয়ে দিল!’ 

Advertisement

সৌমিত্র বলছিলেন, ‘আমার বাবার নামে ভাটপাড়া শ্মশান থেকে বার্নিং সার্টিফিকেট বার করে সেটা দেখিয়ে উত্তর বারাকপুর পুরসভা থেকে ডেথ সার্টিফিকেট নেওয়া হয়েছে। আমি পুরসভায় যোগাযোগ করেছি। এর আগেও জাল আধার, প্যানের সাহায্যে আমার দাদুর একটি জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আমার জেঠুর ছেলে-মেয়েরাই এসব করছে। আমি এর বিচার চাই। একটা ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চলছে আমাদের বিরুদ্ধে।’ উত্তর বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। শ্মশানঘাটের সার্টিফিকেটের উপর ভিত্তি করে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে হিয়ারিং ডাকা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাসুদেবপুর থানার পুলিসও। যোগাযোগ করা হয়েছে কাউগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতে। তবে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান শর্মিষ্ঠা দাস ঘটক বলেন, ‘ওই মৃত্যু শংসাপত্র আমরা দিইনি তাই এর দায়ভারও আমাদের নয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ