পেট্রাপোল বন্দরে অচলাবস্থা, লোডিং আনলোডিং বন্ধ, চরম বিপাকে ব্যবসায়ীরা
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: পেট্রাপোল বন্দরে দুদিন ধরে বন্ধ পণ্য ওঠানো নামানো বা লোড আনলোডিং। অচলাবস্থা কাটাতে সোমবার পেট্রাপোল স্থলবন্দরে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। উপস্থিত ছিলেন বন্দর ম্যানেজার ও একাধিক শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা। বৈঠকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও বৈঠক শেষে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃত্ব ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে জট কেটেছে। আজ (সোমবার) থেকেই শুরু হবে কাজ।

Advertisement

পেট্রাপোল বন্দরে একসময় সিটু ও তৃণমূল শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করতেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেখানে ক্ষমতার দখল নেয় বিএমএস। সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের মন্ত্রীর গোষ্ঠী বিবাদে বন্দরে বিভাজন শুরু হয়। সম্প্রতি বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলে প্রশাসনের কর্তা ও রাজ্যের শাসক দলের নেতারা বৈঠকে বসেন। সেখানে ঠিক হয় বন্দরে বিএমএসের ৭৮ শতাংশ শ্রমিক কাজ করবেন। অন্যান্য ইউনিয়নের তরফে কাজ করবেন বাকি ২২ শতাংশ শ্রমিক। নতুন করে বিএমএসের ১১ জনকে ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এলপিএআই) পরিচয়পত্র দিয়ে বন্দরে ঢোকার অনুমতি দেবে বলেছিল। কিন্তু সেই অনুমতি মেলেনি। এর থেকে শুরু হয় বিবাদ।
অভিযোগ, রবিবার থেকে কাজ বন্ধ করে দেয় বিএমএসের একটি গোষ্ঠী। সোমবারও দুপুর পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। পণ্য ওঠানো নামানো বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে আসা পণ্য বোঝাই লরি দাঁড়িয়ে যায় বন্দরে। 
এই বিষয়ে বিএমএস নেতা রাজীব গোস্বামী বলেন, এদিন বৈঠকে দুটি বিএমএস ইউনিয়নের কথা বলা হয়েছে। একটির ১৫০ জন এবং অন্যটির ৩০০ জন শ্রমিক কাজ করবেন। কিন্তু বিএমএস ইউনিয়ন দুটি কীভাবে হল! আমরা জানি না। 
এই বিষয়ে শান্তনু ঠাকুর বলেন, বন্দরে সমস্যার কথা জানতে পেরে আজ সকলকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলাম। একটা সমাধানের জায়গায় এসেছে। কেন্দ্রের নিয়ম সকলকেই মানতে হবে। কোনো নেতা এখানে এসে যা-খুশি তাই করতে পারবেন না। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, সকলে মিলে আলোচনায় ঠিক হয়েছিল বিএমএসের ৭৮ শতাংশ শ্রমিক কাজ করবেন। বাকি ২২ শতাংশ কাজ করবেন অন্যদের থেকে। এরপর কী হয়েছে জানি না।