শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে জীবিত শিশু বদলে মৃত বাচ্চা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাটে। পরিবারের দাবি, জোর করে মৃত শিশু নিতে বাধ্য করা হয়। তাঁদের তরফে বসিরহাট থানায় অভিযোগ করা হয়। বাচ্চা চুরি ও প্রতারণার তদন্তে নেমে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পান তদন্তকারীরা। দেখা যায়, যে জায়গায় বাচ্চাটিকে কবর দেওয়া হয়েছিল সেখান থেকে তার দেহ উধাও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কীভাবে শিশুর দেহ সেখান থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। দেহটি খুঁজে বের করার পাশাপাশি মৃত বাচ্চাটি কার, তা জানতে মায়ের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হচ্ছে বলে খবর।
বসিরহাট জেলা পুলিস সূত্রে খবর, ওই এলাকায় বাসিন্দা উমা মণ্ডল সন্তান প্রসবের জন্য স্থানীয় একটি ডায়াগনিস্টিক সেন্টার কাম নার্সিংহোমে ভর্তি হন চলতি মাসের আট তারিখ। ওই দিন তিনি একটি সুস্থ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। পুলিসের কাছে করা অভিযোগপত্রে তিনি জানিয়েছেন, ১১ তারিখ তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। ১০ তারিখ রাতে তাঁর কাছ থেকে জোর করে চিকিৎসার নাম করে সন্তানকে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি প্রতিবাদ করলেও, নার্সিংহোমের কেউ কথা শোনেননি। পরের দিন ভোর ছটা নাগাদ তাঁকে জানানো হয়, সন্তান মারা গিয়েছে। মৃত বাচ্চাকে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মহিলা অভিযোগে জানান, জীবিত শিশুকে বদলে মৃত বাচ্চা দেওয়া হয় তাঁকে।
তদন্তে নেমে পুলিস ওই শিশুর মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে স্বরূপনগর এলাকায় বাচ্চাটিকে কবর দেওয়া হয়েছে। ওই পর্বে (৮-১১মে) আসন্ন প্রসবা কারা কারা এই নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন, তার তালিকা সেখান থেকে নেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে যে চিকিৎসক ও নার্স শিশুটির চিকিৎসা করেছিলেন, তাঁরা পুলিসের কাছে দাবি করেন, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ায় শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ১০মে। ভোরবেলা সে মারা যায়। তারা কোনও বাচ্চা বদল করেননি। মৃত শিশুটি উমাদেবীর নাকি অন্য কোনও মহিলার, জানার জন্য কবর থেকে দেহটি তোলার প্রয়োজন হয়। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়, দুজনেরই নমুনা নিয়ে ডিএনও পরীক্ষা করা হবে। যাতে কার সন্তান, সেটার ফয়সালা হয়। আদালতের নির্দেশ নিয়ে তদন্তকারী অধিকারিক ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। মাটি খোঁড়া হলেও সদ্যজাতের দেহ পাওয়া যায়নি। সেখান থেকে একটি রক্তমাখা কাপড় ও আরও কিছু জিনিস উদ্ধার হয়। এরপর পুলিস স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বাচ্চা চুরির আরও একটি এফআইআর করে। কিন্তু কে বা কারা মৃত শিশুকে তুলে নিয়ে গেল তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। শিশু পাচার চক্রের লোকজন কোনভাবে এই কাজে জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ওই বাচ্চাটির পরিবারের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিস। একইসঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য উমাদেবীর কাছ থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে। বাচ্চাটি না পাওয়া গেলেও সেখান থেকে যে কাপড় মিলেছে তাতে রক্তের দাগ রয়েছে। সেখানকার নমুনা নিয়ে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। ওই রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে বাচ্চাটি উমাদেবীর কি না।