Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

দ্বিতীয় দফাতেও ‘অসম্মানের শিকল’,  আমেরিকা থেকে ফিরলেন অবৈধ অভিবাসীরা

দ্বিতীয় দফাতেও ‘অসম্মানের শিকল’,  আমেরিকা থেকে ফিরলেন অবৈধ অভিবাসীরা
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ড ট্রাম্প বসার পরই অনুপ্রবেশকারীদের দেশে ফেরত পাঠানো শুরু হয়েছে। শনিবার দ্বিতীয় দফায় ১১৬ জন এবং তৃতীয় দফায় ১১২ জন ভারতীয়কে নিয়ে অমৃতসরে অবতরণ করে আমেরিকার সামরিক বিমান। তাঁদের মধ্যে ৩১ জন পাঞ্জাব, ৪৪ জন হরিয়ানা, গুজরাতের ৩৩, দু’জন উত্তরপ্রদেশ এবং  হিমাচল ও উত্তরাখণ্ডের একজন করে বাসিন্দা রয়েছেন। প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় দফাতেও অবৈধ অভিবাসীদের ফেরানো হয় ‘অসম্মানের শেকল’ পরিয়েই। তাঁদের দাবি, হাতকড়া পরিয়ে, পা শিকল দিয়ে বেঁধে গোটা রাস্তা নিয়ে আসা হয়েছে। প্রথমবারও একই অভিযোগ করেছিলেন ভারতীয়রা। তার জেরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এই বিষয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতীয়দের যাতে সম্মানের সঙ্গে দেশে ফেরানো হয়, তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা হবে। যদিও সেই বক্তব্যের যে কোনও প্রভাব পড়েনি, তা প্রমাণ মিলেছে দ্বিতীয় দফায় ভারতের ফেরা মানুষজনের কথাতেই। যদিও তৃতীয় দফায় ভারতীয়দের কীভাবে ফেরানো হয়েছে, সে ব্যাপারে রাত পর্যন্ত জানা যায়নি।  
Advertisement
শনিবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিট নাগাদ পাঞ্জাবে অবতরণ করে মার্কিন সেনার সি-১৭ বিমান। তাতে পাঞ্জাবের ৬৫ জন, হরিয়ানার ৩৩ জন, গুজরাতের আটজন, উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, মহারাষ্ট্র, রাজস্থানের ২ জন করে বাসিন্দা এবং হিমাচল ও জম্মু-কাশ্মীরের একজন করে বাসিন্দাকে দেশে ফেরানো হয়েছে। দ্বিতীয় দফাতে দেশে ফিরেছেন দলজিত সিং। পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরের কুরালা কালানের বাসিন্দা। তিনি জানিয়েছেন, গোটা যাত্রাপথে হাতকড়া ও শেকল পড়িয়ে আনা হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য এক ট্রাভেল এজেন্টকে কাঠগড়ায় তুলেছেন দলজিতের স্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সোজা আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তার পরিবর্তে ডাঙ্কি রুট দিয়েই দলজিতে মার্কিন মুলুকে প্রবেশ করানো হয়। এজেন্টের কারণেই ‘অবৈধ অভিবাসী’র তকমা লেগে গেল বলে মনে করছেন দেশে ফেরা আরও এক তরুণ। তার নাম সৌরভ। বয়স ২০। তিনি জানিয়েছে, আমেরিকায় পাঠানো তাঁর পরিবার ৪৫-৪৬ লক্ষ টাকা খরচ করেছিল। পারিবারিক জমি বিক্রি করে ওই টাকা জোগাড় করা হয়েছিল। সৌরভেরও অভিযোগ, তাঁদের হাতকড়া ও শিকল পড়িয়ে আনা হয়েছে। এজেন্টের খপ্পরে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন গুরুদাসপুর জেলার খানোয়াল ঘুমান গ্রামের বাসিন্দা হরজিত সিং। তাঁকে ও তাঁর ভাইয়ের আমেরিকার স্বপ্ন পূরণ করতে পরিবার ৯০ লক্ষ টাকা খরচ করেছে বলে দাবি দেশে ফেরা ওই যুবকের। দলজিত, সৌরভের মতো তিনিও শিকল পড়েই ফিরেছেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ