সুকান্ত বসু, কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানা এলাকার একটি খুনের মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তারি এড়াতে দীর্ঘ ১৬ বছর দুবাইতে আত্মগোপন করেছিল। তারই মধ্যে সে পুলিসের নজর এড়িয়ে ১২ থেকে ১৪ বার ভারতে আসে। বাড়িতে না ঢুকে সে থাকত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। কিছুদিন থেকে ফের দুবাই চলে যেত। এই সময়কালে দুবাইতে সে নানা ধরনের কাজ করেছে। কখনও হোটেলের কর্মী, কখনও সেলসের কর্মী হিসেবে কাজ করে। কিন্তু কোনও কাজই তার মনঃপুত না হওয়ায় সে পাকাপাকিভাবে ভারতে থাকার ব্যাপারে মনস্থির করে। এক মধ্যে গত বছর জুলাই মাসে তার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি হয়। বিষয়টি জানানো হয় অভিবাসন দপ্তরে। সেই সংক্রান্ত আইনি নথি সাঁটা হয় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। গা ঢাকা দেওয়া অভিযুক্ত এসব কিছুই জানতে পারেনি। ফলে চলতি বছর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সুব্রত রায় নামে ওই ব্যক্তি দুবাই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে আসামাত্র অভিবাসন দপ্তরের অফিসাররা তাকে আটক করেন। খবর দেওয়া হয় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিসকে। তড়িঘড়ি দিল্লি পাড়ি দেয় গোপালনগর থানার পুলিস। তারপর ওই অভিযুক্তকে ট্রানজিট রিমান্ডে এনে বনগাঁ আদালতে তোলা হয়। কোর্টের নির্দেশে অভিযুক্তের জেল হেফাজতে হয়েছে।
Advertisement
দীর্ঘ সময় ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার না হওয়ায় বনগাঁ আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক প্রদীপকুমার অধিকারী সম্প্রতি পুলিসের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। সেই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির নির্দেশ দেন তিনি। পুলিসের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের সম্পত্তি ক্রোক করার করার যে আর্জি জানানো হয়েছিল, তা আইন মোতাবেক না হওয়ায় কোর্টের কাছে ভর্ৎসিতও হন তদন্তকারী পুলিস অফিসার।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালের ১২ মার্চ দুপুরে গোপালনগর থানার গাজিপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পুরনো বিবাদকে কেন্দ্র করে গোলমাল বাধে দু’টি পরিবারের মধ্যে। সুব্রত রায় ও তার বাবা‑মা গৌর মণ্ডল নামে এক যুবককে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। ওই পরিস্থিতিতে আচমকা একটি দা দিয়ে সুব্রত গৌর মণ্ডলকে কোপ মারে। গ্রামবাসীরা ছুটে আসে। জখম যুবককে বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত যুবকের দাদার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস সুব্রত রায় ও তার বাবা‑মা’র বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে। ঘটনার পরদিন থেকেই ফেরার হয়ে যায় সুব্রত। একাধিকবার তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। কিন্তু পুলিস গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়। এরপরই আদালতের কড়া নির্দেশে পুলিস অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করে। সেই জালেই ধরা পড়ে যায় দুবাইতে ঘাপটি মেরে থাকা সুব্রত।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালের ১২ মার্চ দুপুরে গোপালনগর থানার গাজিপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পুরনো বিবাদকে কেন্দ্র করে গোলমাল বাধে দু’টি পরিবারের মধ্যে। সুব্রত রায় ও তার বাবা‑মা গৌর মণ্ডল নামে এক যুবককে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। ওই পরিস্থিতিতে আচমকা একটি দা দিয়ে সুব্রত গৌর মণ্ডলকে কোপ মারে। গ্রামবাসীরা ছুটে আসে। জখম যুবককে বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত যুবকের দাদার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস সুব্রত রায় ও তার বাবা‑মা’র বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে। ঘটনার পরদিন থেকেই ফেরার হয়ে যায় সুব্রত। একাধিকবার তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। কিন্তু পুলিস গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়। এরপরই আদালতের কড়া নির্দেশে পুলিস অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করে। সেই জালেই ধরা পড়ে যায় দুবাইতে ঘাপটি মেরে থাকা সুব্রত।



