নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মা শ্বেতা খানের লোভ-লালসার হাত থেকে রেহাই পায়নি তার নিজের মেয়েও! সেক্স র্যাকেটে নামতে অস্বীকার করে চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হয়েছিলেন তিনি। ২০২১ সালের অক্টোবরে বাড়িতেই গলায় ফাঁস দেন শ্বেতা খানের প্রথম পক্ষের মেয়ে ইশিকা খান। ডোমজুড়ের ফকিরপাড়ার যে ফ্ল্যাট থেকে বছরের পর বছর কার্যত বাধাহীনভাবে এই অসাধু কারবার চালিয়ে গিয়েছে শ্বেতা ও তার ছেলে আরিয়ান, শুক্রবার থেকে সেই ফ্ল্যাটে তালা ঝুলছে। মা-ছেলে বেপাত্তা। এখনও তাদের হদিশ পায়নি পুলিস। এই অবস্থায় মুখ খুলতে শুরু করেছেন প্রতিবেশী থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, সেক্স র্যাকেটে নামতে রাজি ছিলেন না ইশিকা। তাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন তিনি। মা-ছেলের এসব অবৈধ কার্যকলাপ নিয়ে পুলিসের কাছে গণস্বাক্ষর সহ অভিযোগ করা হয়েছিল বলেও জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে পুলিসের গাড়ি ফকিরপাড়ার এই গলিতে কখনও ঢোকেনি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আত্মঘাতী হওয়ার কয়েকদিন আগে বন্ধুদের সঙ্গে ‘গেট টুগেদার’ করেছিলেন ইশিকা। এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল হাওড়া শহরের এক ব্যবসায়ীর ছেলের। সেই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ‘ওই মহিলা (শ্বেতা) ছেলের নাম অভিযোগপত্র থেকে সরানোর জন্য এক কোটি টাকা দাবি করেছিল। ইশিকা ও আমার ছেলে একই স্কুলে পড়ত। মেয়েটি পড়াশোনায় ভাল ছিল। ওর মা ওকে বাড়িতে আটকে রেখে খারাপ কাজে নামতে চাপ দিচ্ছিল। বন্ধুদের সে একথা জানায়। বাইরে কোনও চাকরি পেলে চলে যাবে বলেছিল। আমার ছেলে ওর একটি চাকরির ফর্ম পূরণ করে দিয়েছিল। তাই আমার ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে ওই মহিলা।’
সেক্স র্যাকেটে নামতে রাজি না হওয়ায় টানা পাঁচ মাস ফ্ল্যাটে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন করা হয় সোদপুরের এক তরুণীকে। সারা শরীরে অজস্র ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন নিয়ে শুক্রবার ভোরে ডোমজুড়ের সেই ‘কারাকুঠুরি’ থেকে কোনওরকমে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন তরুণী। তারপরই সামনে আসে এই ভয়াবহ ঘটনা। সেই তরুণীর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। সাগর দত্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
বছরের পর বছর কীভাবে ওই ফ্ল্যাটে অসামাজিক কার্যকলাপ চলত? স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৮ বছর ধরে ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকে শ্বেতা। উগ্র চালচলন নিয়ে প্রতিবাদ করায় মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল শ্বেতার প্রথম পক্ষের স্বামীকে। বর্তমানে তিনি ফুরফুরা শরিফে থাকেন। শ্বেতার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী সম্পর্কে বিশেষ ধারণা নেই স্থানীয়দের। তাদের দাবি, ওই ফ্ল্যাটে দিনরাত অপরিচিতদের আনাগোনা লেগে থাকত। রাত বাড়লে গাড়িতে করে আসত তরুণীরা। মাসের পর মাস ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগে ফ্ল্যাটের মালিকও পুলিসের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। ‘রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব’ ছিল বলেই পুলিস কিছু করেনি বলেও অভিযোগ ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের। এর আগে শ্বেতা খানের ফ্ল্যাট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গিয়েছিল বলেও খবর পুলিস সূত্রে।