নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাতের অন্ধকারে ঘরে ঢুকে ২০ বছরের তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল পড়শি দুই যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় অন্য ঘর বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সপ্তাহ খানেক আগে থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিস। অন্যজনের খোঁজ চলছে। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য ‘পলাতক’ যুবক চাপ দিচ্ছে। দত্তপুকুর থানার পুলিসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার।
দত্তপুকুর থানা সূত্রে খবর, সেদিন রাতে প্রতিবেশী যুবক শুভ সাহা ও সঞ্জয় দাস তরুণীর বাড়ির চিলেকোঠা দিয়ে ঢোকে। পাশের ঘরে ছিলেন মা। শুভ ও সঞ্জয় প্রথমে মায়ের ঘরের বাইরে থেকে ছিটকিনি আটকে দেয়। পরে তাঁরা ঢোকে তরুণীর ঘরে। ঘুমন্ত অবস্থায় এক যুবক মুখ ও গলা চেপে ধরে তরুণীর। তরুণীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। কোনওরকমে ঘর থেকে বেরিয়ে মায়ের ঘর খুলে দেয় নির্যাতিতা। তারপরই অভিযুক্তরা পালায়। ঘটনার কথা বাইরে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। নির্যাতিতা দত্তপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত সঞ্জয় দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। কিন্তু এখনও অধরা শুভ সাহা। কেন থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, তা নিয়ে লাগাতার পলাতক অভিযুক্তের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে নির্যাতিতা তরুণী ও পরিবারকে। অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। হুমকির জেরে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন নির্যাতিতা ও পরিবার। এনিয়ে নির্যাতিতার মা বলেন, ওরা আমাকে বাইরে থেকে আটকে দিয়ে মেয়ের উপর অত্যাচার করেছে। পুলিস একজনকে গ্রেপ্তার করলেও অন্যজন আমাদের ধারাবাহিকভাবে চাপ দিচ্ছে কেস তোলার। শুধু তাই নয়, আমাদের এখনও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। পুলিসকে বলেও কাজ হচ্ছে না। আমরা ভয়ে গৃহবন্দি। নির্যাতিতার দাবি, অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে আমাদের গ্রামছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বারাসত পুলিস জেলার অতিরিক্ত সুপার (জোনাল) অতীশ বিশ্বাস বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।