


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মাত্র দু’ বছরের শিশু। জীবনের শুরুতেই কঠিন লড়াই। বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী দত্তপুকুরের নিমদাঁড়িয়া গ্রামের সোফিয়া সুলতানা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে বাঁচাতে দরকার একটি বিশেষ ইঞ্জেকশন। যার দাম প্রায় ন’ কোটি টাকা। সেই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে না পেরে এখন মানুষের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছে শিশুটির পরিবার। জানা গিয়েছে, দত্তপুকুর থানার নিমদাঁড়িয়া গ্রামে থাকেন তৌফিক মোল্লা। পেশায় তিনি সেলাইয়ের কাজ করেন। তাঁর এক মাত্র মেয়ের বয়স দুই বছর ২ মাস। কয়েকমাস আগে শিশুটির শরীরে অস্বাভাবিক দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দেয়। হাঁটাচলা ও শারীরিক নড়াচড়ায় সমস্যা বাড়তে থাকে। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষার পর ধরা পড়ে, বিরল রোগ স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি টাইপ ১-এ আক্রান্ত সে। চিকিৎসকরা জানান, এই রোগে ধীরে ধীরে শরীরের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সোফিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই বর্তমানে চিকিৎসাধীন সে। তবে চিকিৎসকদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই রোগের চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ ইঞ্জেকশন প্রয়োজন। যার বাজাোরমূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা। এই বিপুল টাকা জোগাড় করা এই গরিব পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এখন মানুষের সহানুভূতি ও সাহায্যই ভরসা হয়ে উঠেছে পরিবারটির কাছে। শিশুটিকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পথে নেমেছে। বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগিয়ে এবং প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করা হচ্ছে। শিশুটির বাবা তৌফিক মোল্লা জানান, মেয়েকে বাঁচাতে আমরা শেষ চেষ্টা করছি। কিন্তু ৯ কোটি টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মানুষের কাছে হাতজোড় করে সাহায্য চাইছি। দুই বছরের এক শিশুর জীবন এখন নির্ভর করছে মানুষের মানবিকতার উপর। সোফিয়াকে বাঁচাতে সেই আশাতেই দিন গুনছে অসহায় পরিবার।