Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোলপুরে দার্জিলিংয়ের অনুভূতি, শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রার পারদ নেমে ৬.৫ ডিগ্রি

বছরের শেষদিন শান্তিনিকেতনে কার্যত হাড়হিম করা ঠান্ডা পড়ল। এদিন মরশুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৫ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল।

বোলপুরে দার্জিলিংয়ের অনুভূতি, শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রার পারদ নেমে ৬.৫ ডিগ্রি
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বছরের শেষদিন শান্তিনিকেতনে কার্যত হাড়হিম করা ঠান্ডা পড়ল। এদিন মরশুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৫ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। শীতের আমেজ উপভোগ করতে সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পর্যটকের ঢল নামে। সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে শান্তিনিকেতনে দার্জিলিংয়ের মতো বরফ পড়ার ছবি ও মিম শেয়ার করেন অনেকে। জমিয়ে পিকনিকও চলছে। সকলের এক কথা, এবার ঠান্ডা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে। শ্রীনিকেতন আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের ঠান্ডা গত দু’-তিন বছরের মধ্যে রেকর্ড গড়েছে। অন্যান্য বছর এইসময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৭ডিগ্রির নীচে নামেনি। গত কয়েকদিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮.৪ডিগ্রি। আজ বছরের প্রথম দিনেও তাপমাত্রা একইরকম থাকবে বলে জানা গিয়েছে। আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা বাড়বে বলেই জানিয়েছে তারা। 

Advertisement


গত কয়েকদিনে শান্তিনিকেতনে প্রবল ঠান্ডা পড়েছে। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। রোদের তেজ না থাকায় সারাদিনই শীতের কামড় অনুভূত হয়। শান্তিনিকেতনে কার্যত দার্জিলিংয়ের আবহাওয়া। সেকারণে নেটিজনেরা  দার্জিলিংয়ের  সঙ্গে তুলনা টানছেন। এখানকার ছবিতে দার্জিলিংয়ের মতো বরফ পড়ার ছবি জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন অনেকে। অনেকে লিখছেন, এবার দার্জিলিংকে টেক্কা দিচ্ছে শান্তিনিকেতন। এখানেও বরফ পড়ছে। এখানকার বাসিন্দা দেবাশিস সাহা বলেন, শান্তিনিকেতন যেন দার্জিলিং হয়ে উঠেছে। আজ বছরের শীতলতম দিন। শীতের দাপটে কাঁপছি। এমন ঠান্ডা আগে দেখিনি। তাই অনুভূতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলাম। এইসব পোস্ট প্রচুর শেয়ার করছেন পর্যটক সহ বাসিন্দারা। শ্রীনিকেতন আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া সকালের ‘ওয়েদার রিপোর্ট’ও দেদার শেয়ার করেছেন অনেকে। 


এদিন ভোরের দিকে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় চারপাশ। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যান চলাচলেও সমস্যা দেখা যায়। শীতের কারণে সকালবেলা রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকছে। দোকানপাটও খুলতেও দেরি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাঁদের কথায়, প্রবল শীতে দোকান খুলতে দেরি হচ্ছে। অথচ ব্যাপক পর্যটক সমাগম হয়েছে। তবে এত ঠান্ডা আর নেওয়া যাচ্ছে না। 
বর্ষবরণে ছুটি কাটাতে শান্তিনিকেতনে হোটেল, রিসর্ট ও হোম-স্টেগুলিতে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। তাঁরা শীতের আমেজে আনন্দ করছেন। কলকাতা থেকে আসা পর্যটক মৌসুমি পাল বলেন, শীতের সময়টা শান্তিনিকেতন খুব উপভোগ্য। কখনও ভোরের কুয়াশা আবার রিসর্টের বারান্দায় এক টুকরো রোদ। সোনাঝুরি, কোপাই, সৃজনী শিল্পগ্রাম সহ সব জায়গা ঘুরে এক দারুণ আনন্দ হয়। অনেক পর্যটক শীত উপভোগ করতে ভিড় জমালেও অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে সকালে বাইরে বেরতে পারছেন না বলে আক্ষেপ করছেন। আর এক পর্যটক বলেন, শীতের দাপটে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু প্রকৃতির এই বদলে যাওয়া রূপ অনেকের কাছেই উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ