Bartaman Logo
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুঃসাহসিক লুট ৬ লক্ষের সোনার গয়না-নগদ

গত সাত বছর ধরে কাজ করছে ভৃত্য। বাড়িতে থেকেই অভিজাত প্রবীণ দম্পতির দেখাশোনা করত সে। সুযোগ বুঝে বৃদ্ধাকে ঘরের মধ্যে গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে আটকে রেখে ৬ লক্ষ টাকার গয়না ও নগদ লুট করে চম্পট দিল পরিচারক।

দুঃসাহসিক লুট ৬ লক্ষের সোনার গয়না-নগদ
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বার্ণিক দাস,  কলকাতা: গত সাত বছর ধরে কাজ করছে ভৃত্য। বাড়িতে থেকেই অভিজাত প্রবীণ দম্পতির দেখাশোনা করত সে। সুযোগ বুঝে বৃদ্ধাকে ঘরের মধ্যে গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে আটকে রেখে ৬ লক্ষ টাকার গয়না ও নগদ লুট করে চম্পট দিল পরিচারক। জোড়াবাগান থানা এলাকার মহর্ষি দেবেন্দ্র রোডে এই চাঞ্চল্যকর লুটের ঘটনাটি ঘটেছে। বৃদ্ধাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। ফেরার ভৃত্যের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, ১৯৬এ মহর্ষি দেবেন্দ্র রোডের বাড়িতে থাকেন মীনা দেবী ঠাকুর (৬০) ও তাঁর স্বামী ছত্রপল ঠাকুর। স্বামী শয্যাশায়ী। একতলার ঘরে থাকেন তিনি। সেই তলেই অন্য একটি ঘরে থাকে পরিচারক সঞ্জয় ঘোষ। গত সাত বছর ধরে এই বাড়িতেই কাজ করছে সে। খাওয়া-থাকা এখানেই। মাসে বেতন পেত ১২ হাজার টাকা। গত ২১ আগস্ট বাড়িতেই দোতলার ঘরে ছিলেন মীনাদেবী। আচমকা সেই ঘরে প্রবেশ করে সঞ্জয়। মাঝেমধ্যেই সে তাঁর ঘরে ঢুকে গল্প-গুজব করত। ওইদিনও সে মীনাদেবীর সঙ্গে গল্প জুড়ে দেয়।
এই সময় আচমকা সবজি কাটার বড়ো ছুরি বের করে বৃদ্ধার উপর আঘাত হানে সে। তার সাফ হুমকি— ‘গলা দিয়ে আওয়াজ বের হলে সরাসরি চালিয়ে দেব।’ ‘বিশ্বস্ত’ ভৃত্যের এমন ব্যবহার জীবনেও কল্পনা করেননি মীনাদেবী। তিনি আকস্মিকতায় হকচকিয়ে যান। তখন নিজের প্যান্টের বেল্ট খুলে বৃদ্ধার গলায় পেঁচিয়ে খাটের সঙ্গে আটকে দেয় সঞ্জয়। বৃদ্ধা আর্তনাদ করলেও সেই শব্দ যাতে অন্য কেউ শুনতে না পায়, তাই টিভির ভলিউমও বাড়িয়ে দেয় সে। গলায় বেল্টের প্যাঁচ আঁটোসাঁটো করে দেওয়া হয়, যাতে তিনি খুলতে না পারেন। 
বৃদ্ধার অসহায়তার সুযোগে তাঁর গলার সোনার চেন ও কানের দুল খুলে নেয় অভিযুক্ত। বৃদ্ধার সন্তানরা সবাই বিদেশে থাকেন। সেখান থেকেই ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা আসে। মাসের প্রথমে সেই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে বাড়িতেই রাখতেন মীনাদেবী। সেই তথ্য জানত এই পরিচারক। তাই সোনার গয়না লুটের পর আলমারিকে টার্গেট করেন সঞ্জয়। মীনাদেবীকে চাপ দিয়ে চাবি আদায় করে আলমারির লকার থেকে ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত। এরপর দরজা বন্ধ করে চম্পট দেয় সে।
দীর্ঘক্ষণ বৃদ্ধা ঘর থেকে বের না হওয়ায় বাড়ির অন্য এক পরিচারিকা সন্দেহের বশে ওই ঘরে যান। গিয়ে দেখেন, বৃদ্ধা প্রায় আধমরা অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছেন। তাঁর গলায় বেল্ট প্যাঁচানো। শ্বাসরোধ হওয়ার মতো উপক্রম হয়েছিল। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার রাতে বৃদ্ধা কিছুটা সুস্থ হলে পুলিশ তাঁর বয়ান রেকর্ড করে। তার ভিত্তিতেই মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে জোড়াবাগান থানা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ