নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এক এক করে চারটি বাঘেরই মৃত্যু হয়েছে ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে। সুন্দরবনে বেড়াতে আসা অসংখ্য পর্যটকের কাছে এটি ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র। জঙ্গলে বাঘ দেখতে না পেয়ে তাঁরা এখানে এসেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখে বাড়ি ফিরতেন। এক প্রকার দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতেন পর্যটকরা। এখন বাঘ শূন্য এই পুনর্বাসন কেন্দ্র। পুজোতে এখানে ভিড় হয়নি বললেই চলে। কারণ লোকমুখে ছড়িয়ে গিয়েছিল যে এই কেন্দ্রে আর বাঘ নেই। আর যাঁরা না জেনে এসেছিলেন তাঁদের হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে। কিন্তু দুমাস বাদে শীতের মরশুম শুরু হতে চলেছে। সেই সময় ব্যাপক ভিড় হয় সুন্দরবন জুড়ে। তখনো কি ফাঁকাই থাকবে এখানকার খাঁচাগুলি? এই ব্যাপারে অবশ্য এখনই স্পষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি বনমন্ত্রী মনোজ ওরাও। জানা গিয়েছে, এক বছরের মধ্যেই এক এক করে সোহিনী, সোহন, সুন্দর এবং আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে আনা একটি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। তারপর থেকেই পর্যটকদের প্রশ্ন ছিল, এবারে কি নতুন করে বাঘ আনা হবে? বন দপ্তরের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ছিলেন সবাই। বর্তমানে ওই ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে কয়েকটি কুমির, হরিণ রয়েছে। কিন্তু পর্যটকরা মূলত বাঘ দেখতেই ভিড় করতেন সেখানে। বনমন্ত্রী বলেন, বাঘ আনার চেষ্টা করা হবে। এছাড়াও আরো কুমির ও অন্যান্য প্রাণী আনার ব্যাপারেও উদ্যোগ নেবে দপ্তর। একটু সময় লাগবে। যেটা ভালো হবে সেটাই করব আলোচনা করে।
মন্ত্রীর কথা থেকে পরিষ্কার, আসন্ন শীতের ছুটিতে ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে পর্যটকরা বাঘ দেখতে ভিড় করতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে সংশয় তৈরি হল। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিগত সরকারের আমলে ঝড়খালির এই মিনি জুকে ঢেলে সাজার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সেটা আর কার্যকর হয়নি। পাখিদের খাঁচা সহ আরো বেশ কিছু জীবজন্তু আনার কথাবার্তা এগিয়েছিল। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে অবহেলায় থেকে গিয়েছে এই কেন্দ্রটি। প্রতি বছর এখানে শীতের সময় ভালো ভিড় দেখা যায়। এবারে সেই ঢল নেমে আসবে কিনা সেটাই প্রশ্নের।



