


নিজস্ব প্রতিনিধি, জামুড়িয়া: শনিবার শিল্পাঞ্চল জুড়ে প্রচারে ঝড় তুললেন যাদবপুরে তৃণমূল সাংসদ সদস্য সায়নী ঘোষ। এদিন জামুড়িয়া, পাণ্ডবেশ্বর ও কুলটি তিনটি বিধানসভায় চারটি জনসভা করেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী। বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়ন খতিয়ান তুলে ধরেন সায়নীদেবী। এদিন প্রথম সভা করেন জামুড়িয়া বিধানসভার চিচুড়িয়ায়। তিনি এসআইআর প্রসঙ্গে বলেন, বাংলার ৯২ লক্ষ মানুষের নাম ওরা বাদ দিয়েছে। আপনাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। বিজেপি বলে, হিন্দুরা বিপদে আছে। আমরা বলি, কেন্দ্রীয় সরকারে বিজেপি আসার পর থেকেই হিন্দুদের বিপদ বেড়েছে। বাংলায় সিংহভাগ হিন্দু ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিজেপি শুধুমাত্র মানুষকে হয়রানি করিয়েছে। নোটবন্দি থেকে এসআইআর সবেতেই মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। হুমায়ুন কবীরের ভিডিয়ো প্রসঙ্গে তুলে বলেন, ভাইরাল হওয়ার ভিডিয়োটা দেখেছেন তো। একটা কথা মনে রাখবেন, সিপিএম-কংগ্রেস সহ অন্য দল সবই বিজেপির ‘বি’ টিম। সব দল একদিকে আর আপনাদের দিদি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন একদিকে। যিনি ৭১ বছর বয়সেও আপনাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন। আমি সায়নী ঘোষ হুডখোলা জিপে রোড শো করি। আর উনি এই বয়সেও পাঁচ-সাত কিলোমিটার পদযাত্রা করেন। কারণ উনি আপনাদের মাটি থেকে উঠে আসা জননেত্রী।
তিনি আরও বলেন, বাংলায় ফের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে উনিই বসবেন, এটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। এখানে বলে যাচ্ছি, উনি এবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই শুরু হবে দিল্লি দখলের লড়াই। মা, বোনরা পাশে থাকলে দিদি প্রধানমন্ত্রী হবেন। জামুড়িয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হরেরাম সিং প্রসঙ্গে বলেন, ৪৪ বছরের বাম অত্যাচার ভেঙে উনি এখানে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। যাঁরা সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তাঁদের কাছে বিজেপি কোনো ব্যাপারই নয়। এদিন তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিং বলেন, সিপিএম এখানে সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়ে ভোট কেটে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তৃণমূল সাংসদ এদিন পাণ্ডবেশ্বরের বহুলা ও ইছাপুরে দলীয় প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে সভায় বলেন, আমার নেত্রী, আপনাদের দিদিই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি বিজেপিকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছেন। দেশের অন্য কোনো মুখ্যমন্ত্রীর এই ক্ষমতা নেই। এটা আমার, আপনার গর্ব। তিনি বলেন, বিজেপি হিন্দু, মুসলিম কারও উপকার করেনি। আর টিএমসি মানে টেম্পল, মসজিদ ও চার্চ। সব ধর্মের সমন্বয়।