নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: তৃণমূল বোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দলেরই একাংশের কাউন্সিলারের আনা অনাস্থা ঘিরে একমাসের ডামাডোলের যবনিকা পতন। ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানোর অভিযোগে গত ৩০ জুলাই জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন মমতাপন্থী কাউন্সিলাররা। এরপর টানটান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে একের পর এক ধাপ অতিক্রম করেও ‘ম্যাচ ফিনিশ’ করতে পারলেন না তাঁরা।
প্রথমে অনাস্থা বৈঠক শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে বারোটায় জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে সৈকত চট্টোপাধ্যায় ইস্তফা দেওয়ায় কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যান তাঁরা। যদিও অনাস্থা বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে ‘রিমুভাল অব চেয়ারম্যান’ প্রক্রিয়া সেরে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলাররা দাবি করেন, তাঁদের বৈঠক শেষের পর চেয়ারম্যানের ইস্তফাপত্রের কথা জানতে পেরেছেন তাঁরা। নিয়ম মেনে সাতদিন পর তিনদিনের নোটিস দিয়ে নয়া চেয়ারম্যান নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন তাঁরা। সেক্ষেত্রে তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জলপাইগুড়ি পুরসভায় মমতাপন্থী তৃণমূল বোর্ডের পরবর্তী চেয়ারম্যান হতে চলেছেন বলে খবর ছড়ায়।
সৈকতকে অপসারণের পর কালীঘাট শিবিরের তৃণমূল নেতাদের কেউ কেউ পুরসভার সামনে বাজি, পটকা ফাটিয়ে উল্লাসও করেন। কিন্তু দিনের শেষে রাজ্য সরকারের তরফে পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসানোর চিঠি আসতেই কার্যত চুপসে যান অনাস্থার পক্ষের শিবিরের কাউন্সিলাররা। এদিন সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারের পুরদপ্তরের তরফে আসা চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, জলপাইগুড়ি পুরসভায় টানা যে অচলাবস্থা চলছে এবং তার জেরে যেভাবে পুর পরিষেবা ভেঙে পড়েছে ,তা বড়োসড়ো সংকট তৈরি করেছে। সেকারণেই বর্তমান পুরবোর্ড বিলুপ্ত করে দিয়ে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
এনিয়ে অনাস্থার পক্ষের শিবিরের কাউন্সিলার তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার পর পুর আইন মেনেই আমরা এগচ্ছিলাম। জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫ জন কাউন্সিলারের মধ্যে সম্প্রতি দু’জন ইস্তফা দিয়েছেন। বাকি ২৩ জনের মধ্যে এদিন অনাস্থা বৈঠকে ১৮ জন কাউন্সিলার উপস্থিত ছিলেন। এরমধ্যে ১৬ জন অনাস্থার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। একজন ভোট দেন অনাস্থার বিপক্ষে। সিপিএমের একজন কাউন্সিলার বৈঠকে থাকলেও তিনি কোনো পক্ষেই সমর্থন করেননি। অনাস্থায় চেয়ারম্যানকে অপসারণ ঘটানোর পর নয়া চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যেই রাজ্য সরকার যেভাবে বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসিয়ে দিল, এটা কাম্য ছিল না।
সৈকতের অবশ্য মন্তব্য, এই পরিস্থিতির জন্য কয়েকজন কাউন্সিলারের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব দায়ী। • নিজস্ব চিত্র।