নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের ‘দালাল’রাই অসমের ‘ডাক্তার’। সেরাজ্যে গিয়ে তারা রীতিমত চেম্বার করত। উদ্দেশ্য ছিল মগজ ধোলাই করে সেরাজ্যের রোগীদের বর্ধমানের নার্সিংহোমে নিয়ে আসা। একবার কোনো রোগীকে নিয়ে আসতে পারলেই কেল্লা ফতে! কয়েক লক্ষ টাকার বিল নিশ্চিত। বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দিরের কাছে বন্ধ হয়ে যাওয়া নার্সিংহোমে এভাবে অসমের রোগীদের নিয়ে এসে অপারেশন বা চিকিৎসা করানো হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তর প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, এই চক্রের অন্যতম মাথা আনিসুর নামে এক ব্যক্তি। সে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে অপারেশন করত। নিজে অসমেও যেত। সেখান থেকে রোগী নিয়ে এসে নার্সিংহোমে ভরতি করত। আধিকারিকরা তার ভূমিকা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, আরএক ভুয়ো ডাক্তার সাইদুল হকের সঙ্গে আনিসুরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আনিসুরও ডাক্তারি পাশ না করে অপারেশন করেছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমের রোগীদের নার্সিংহোমে ভরতি করতে পারলে সব দিক থেকেই দালাল বা এক শ্রেণির নার্সিংহোম মালিক লাভবান হন। কোনো রোগী ভুল চিকিৎসায় মারা গেলেও কেউ প্রতিবাদ করার থাকে না। ভুয়ো ডাক্তারদের নিজস্ব বাহুবলী গ্যাং রয়েছে। কোনো রোগী মারা গেলে তারা হাজির হয়ে যায়। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা তথা বিজেপি নেতা রামানন্দ মজুমদার বলেন, তৃণমূলের জমানায় ভুয়ো ডাক্তারদের গ্যাং তৈরি হয়েছিল। তারা দুষ্কৃতীদের সঙ্গে নিয়ে চলত। এক শ্রেণির নার্সিংহোম মালিকদেরও মদত ছিল। শহরের বেশকিছু নার্সিংহোমে রোগী ভরতি করলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৫০ হাজার টাকা বিল হয়ে যায়। কম দামি ওষুধ কিনে এনে রোগীদের কাছে থেকে মোটা টাকা নেওয়া হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই বাহুবলীরা নার্সিংহোমে হাজির হয়ে যায়। তারা জোর করে রোগীর পরিবারের কাছে থেকে টাকা আদায় করে। তবে এসব আর চলবে না। কোথাও রোগীর পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করলে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরাও নজর রাখছি। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বর্ধমানে শুধু সাইদুল নয়, তার মতো আরও অনেক ভুয়ো ডাক্তারের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তাদের কেউ এক সময় ওষুধের দোকানে কাজ করত, আবার কেউ চিকিৎসকের অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজ করত। তবে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন চক্রর বিষয়টি সামনে আসায় তাদের অনেকেই চেম্বার ছেড়ে লুকিয়ে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাইদুলের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তাকে থানায় হাজিরা দেওয়ার জন্য নোটিস করা হয়েছিল। তারপরেও আসেনি। তার বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানাতেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিশেষ টিম তৈরি করে সমস্ত ভুয়ো ডাক্তারকে পাকড়াও করা হোক। তারা রীতিমত বোর্ড লাগিয়ে প্র্যাকটিস করত। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নার্সিংহোমগুলিতে অভিযান শুরু হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।