সংবাদদাতা, বালুরঘাট: চলতি শিক্ষাবর্ষে নন-স্যালারি গ্র্যান্ট পায়নি দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি আর্থিক বর্ষে এপ্রিল থেকে ওই ফান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা থেকে শুরু করে অতিথি অধ্যাপকদের বেতন দিতে সমস্যায় পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা প্রদান করে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ওই ফান্ড এখনো পর্যন্ত মেলেনি। কোনোরকমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বেতন থেকে শুরু করে পরীক্ষা, অফিসের খরচ, বৈদ্যুতিক বিল মেটাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু এখনও সমস্যার কোনো সুরাহা মেলেনি। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এখন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রণব ঘোষ। তিনি বলেন, ‘চলতি আর্থিক বছরে আমরা নন-স্যালারি গ্র্যান্ট পাইনি। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। কোনোরকমে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমানো আর্থিক তহবিল থেকেই অস্থায়ী অধ্যাপকদের বেতন দিচ্ছি। এছাড়াও অন্যান্য খরচ আমরা আপাতত মিটিয়েছি। এই ফান্ড না পেলে পরবর্তীতে আমাদের সমস্যা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সমস্যা মিটবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র উপাচার্য ও ফিন্যান্স অফিসারকে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর সরাসরি বেতন দেয়। বাকিদের সরাসরি সরকারি বেতন দেওয়া হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সব কর্মী অফিসে কাজকর্ম করেন, তাঁরা মূলত একটি সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত। ওই সংস্থা সেই কর্মীদের বেতন দেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আপাতত প্রায় ২০ জন অতিথি অধ্যাপক রয়েছেন। প্রত্যেককেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নন-স্যালারি ফান্ড থেকে বেতন দিতে হয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পরীক্ষা হলে বাড়তি খরচ হয়। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসের নানা ধরনের কাজকর্ম, যেমন উপাচার্যের গাড়ির তেল, বিদ্যুতের বিল, সবই ওই নন-স্যালারি গ্র্যান্টের ফান্ড থেকে মেটাতে হয়।
চলতি অর্থ বর্ষের এপ্রিল মাস থেকে ওই ফান্ড পাওয়ার কথা। কিন্তু সে সময় ভোট চলাকালীন সেই ফান্ড পেতে সমস্যা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন সরকার আসার পরেও ওই ফান্ডের অর্থ মেলেনি।
সামনেই নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়তি ফান্ডের প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে, বর্তমানে যে জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে সেই জায়গা থেকে নতুন জায়গায় স্থানান্তরিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন জায়গায় পরিকাঠামো গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী মাসে বাড়তি খরচ হতে পারে। বিগত দিনে প্রতি অর্থবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ৬০ লক্ষ টাকা পেয়েছে। বিভিন্ন ধাপে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর তা দিয়েছে।