Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

থানায় থানায় ‘ডাকমাস্টার’, চক্র ভাঙতে আসরে নামছে প্রশাসন

তৃণমূল জমানায় সিভিক ভলেন্টিয়াররাই থানার ‘ডাকমাস্টার’ হয়ে উঠেছিলেন। এলাকায় অবৈধ কারবারের টাকা তাঁরাই তুলতেন বলে অভিযোগ।

থানায় থানায় ‘ডাকমাস্টার’, চক্র ভাঙতে আসরে নামছে প্রশাসন
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: তৃণমূল জমানায় সিভিক ভলেন্টিয়াররাই থানার ‘ডাকমাস্টার’ হয়ে উঠেছিলেন। এলাকায় অবৈধ কারবারের টাকা তাঁরাই তুলতেন বলে অভিযোগ। ডাকমাস্টারদের এই সিন্ডিকেট ভাঙতে উদ্যেগী হয়েছে নতুন সরকার। বিভিন্ন থানায় কোন কোন সিভিক ভলেন্টিয়ার ডাকমাস্টারের কাজ করেন, তাই নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে পুলিশ ডিরেক্টরেট। প্রসঙ্গত, এলাকায় মদ, সাট্টা, জুয়ার মতো অনৈতিক কাজকর্ম, ফুটপাতে বসা বেআইনি দোকান-হকারি চালাতে দৈনিক বা মাসিক হারে টাকা দিতে হয় পুলিশকে। এই টাকার সংগ্রাহক সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্তকে ‘ডাকমাস্টার’ বলা হয়।  

Advertisement

রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন থানা এলাকাতেই জুয়া, সাট্টা, বেআইনি মদের ঠেক. মাদক পাচারের ব্যবসা চলে। বাম জমানা থেকেই এই কালচার চলে আসছে। তৃণমূল আমলে তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। যে কারবার একসময়ে গোপনে চলত, গত ১৫ বছরে তা প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বেআইনি নির্মাণ থেকে স্কোয়ার ফুট ধরে টাকা আদায়। এমনকী ফুটপাতে হকার বসিয়ে, বেআইনি পার্কিংয়ের সুযোগ করে দিয়ে টাকা তোলার নতুন নতুন ফন্দি বের হয়। বেআইনি এই কারবার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উঠত বলে দাবি পুলিশ মহলের একটা বড় অংশের। এই অবৈধ ব্যবসা থেকে যিনি বেশি টাকা তুলে দিতে পারবেন তাঁকেই ডাকমাস্টার করা হয়। রীতিমতো ‘টেন্ডার’ ডেকে ডাকমাস্টার ঠিক করা হয়। বাম জমানায় কনস্টেবলরাই বিভিন্ন থানায় ডাকমাস্টার হতেন। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর  বড়বাবুরা তাঁদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও শাসকদলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ডাকমাস্টার হিসেবে নিয়োগ করা শুরু করেন।  এলাকা ঘুরে তাঁরা এই অবৈধ কারবার থেকে টাকা তুলে বেড়ান বলে অভিযোগ। এই টাকা থানায় নিয়ে আসার পর ভাগ হয় বিভিন্ন পুলিশ কর্মীর মধ্যে। এই সুযোগে ডাকমাস্টারের দায়িত্বে থাকা সিভিক ভলেন্টিয়াররা বেআইনি ঠেক বসিয়ে টাকা রোজগার শুরু করেন বলে জেনেছেন পুলিশের কর্তারা। তৃণমূল আমলে এই সিভিক ভলেন্টিয়াররা পার্টির ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখাননি কেউ। পালাবদল ঘটতেই এই কালচার ভাঙতে উদ্যেগী হয়েছেন পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, বেআইনি ব্যবসা চলবে না। মুখ্যমন্ত্রীর ওই বার্তার পরই ডাকমাস্টারদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যে সমস্ত ওসি বা আইসি’র মদতে এই কাজ চলত, তাঁদেরও একটি তালিকা তৈরি হচ্ছে বলে খবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ