নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ দিতে হবে কেন্দ্রীয় হারেই। এই দাবিতে এক সুর বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম প্রভাবিত কর্মী সংগঠনগুলির। কেন্দ্রীয় সরকারের হারে কর্মীদের মহার্ঘভাতা (ডিএ) প্রদানের জন্য সপ্তম বেতন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে তারা। তৃণমূল প্রভাবিত রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন, বিজেপি প্রভাবিত কর্মচারী পরিষদ ও সিপিএম প্রভাবিত কো-অর্ডিনেশন কমিটি ইতিমধ্যে তাঁদের বিস্তারিত দাবি সংবলিত স্মারকলিপি বেতন কমিশনে পেশ করেছে। ডিএ ছাড়াও বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর দাবি করেছে তারা। বেতন কমিশনের পোর্টালে অনলাইনে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো সংগঠনের প্রতিনিধির সঙ্গে কমিশনের সরাসরি আলোচনার সুযোগ হয়নি।
সর্বভারতীয় মূল্য সূচক (এআইসিপিআই) অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বছরে দুবার (জানুয়ারি ও জুলাই মাসে) মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি করা হয়। বেশ কয়েকটি রাজ্যের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণার পরই তাদের কর্মীদের জন্য বর্ধিত ডিএ ঘোষণা করে দেয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের সময় থেকেই ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা মানা হয় না। তাই কেন্দ্রীয় কর্মীদের তুলনায় রাজ্য কর্মীদের ডিএ বকেয়া থেকে যায় সবসময়। সরকারি কর্মীদের সংগঠনগুলি সপ্তম বেতন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছে, এআইসিপিআই অনুযায়ী ডিএ ধার্য করা হোক। কেন্দ্রীয় কর্মীদের মতো বছরে দুবার ডিএ বৃদ্ধি করতে হবে। বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর অক্টোবর মাস থেকে রাজ্য কর্মীদের ডিএ ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এখন রাজ্য কর্মীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পান। কেন্দ্রীয় কর্মীদের জুলাই থেকে ৩ শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণার পর তা বেড়ে হয়েছে ৬৩ শতাংশ। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনায় এ রাজ্যের কর্মীরা এখনও ২৫ শতাংশ কম ডিএ পাচ্ছেন। সরকারি কর্মী সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য, সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার আগে রাজ্য কর্মীদের এই ২৫ শতাংশ ডিএ দিতে হবে। প্রসঙ্গত, ষষ্ঠ বেতন কমিশন ডিএ দেওয়ার বিষয়টি রাজ্যের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিয়েছিল। সপ্তম বেতন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার।



