বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হল ঘূর্ণিঝড় মুরাশু,  রাজ্যের কিছু স্থানে অল্প বৃষ্টির সম্ভাবনা
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ও লাগোয়া পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাশু’ সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কাল সোমবার মধ্য রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর রাতের মধ্যে এটি তীব্র ঘূর্ণিঝড় (সিভিয়ার সাইক্লোন) হিসাবে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের নেলোর ও নরসাপুরের মধ্যে উপকূল অতিক্রম করে স্থলভূমিতে প্রবেশ করবে। সেইসময় ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিমির মধ্যে থাকবে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ১২০ কিমি পর্যন্ত উঠতে পারে। মুরাশুর যা গতিপ্রকৃতি তাতে এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপর বিশেষ পড়বে না বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের কিছু স্থানে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের কিছু স্থানে, বিশেষ করে পাহাড় লাগোয়া এলাকাতে কোনো কোনো জায়গায় বুধবার পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের আধিকারিক সৌরীশ বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার জানিয়েছেন,  বঙ্গোপাসগর থেকে কিছু পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে। এর জেরে কিছু স্থানে কিছুটা বৃষ্টি হতে পারে। 

Advertisement

বাতাসে জলীয় বাষ্প বৃদ্ধির জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছে রবিবার থেকে। কিছু স্থানে আকাশ আংশিক মেঘলা হচ্ছে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার কিছু অংশে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (২৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) স্বাভাবিকের থেকে ২.৩ ডিগ্রি বেশি ছিল। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কাটার পর ৫ নভেম্বর থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। 
ঘূর্ণিঝড় মুরাশু উপকূল অতিক্রম করার পর অন্ধ্র্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা হয়ে মহারাষ্ট্রের দিকে সরবে বলে মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর। এর প্রভাবে উপকূলীয় অন্ধ্র ও রায়লসীমা এলাকা, তেলেঙ্গানা,তামিলনাড়ু, দক্ষিণ ওড়িশা ও দক্ষিণ ছত্তিশগড়ে বৃষ্টি বেশি হবে। 
আগের খুব তীব্র মাত্রার ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের গতিপথ আলাদা ছিল। সেটি অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার পর ওড়িশা, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশের দিকে যায়। এটির প্রভাবে ওড়িশা, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি বৃদ্ধি পায়। এবারের ঘূর্ণিঝড়টির জন্য রাজ্যের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর পুরোপুরি বিধিনিষেধ আরোপ করেনি আবহাওয়া দপ্তর। তবে বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে না-যাওয়ারই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পশ্চিম-মধ্য এবং লাগোয়া উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর উত্তাল হবে।