নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এই সপ্তাহের শেষদিকে, ১৪-১৫ জুন নাগাদ বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণাবর্ত-নিম্নচাপটি তৈরি হতে চলেছে সেটি দক্ষিণবঙ্গসহ পূর্ব ভারতের অন্য এলাকায় বর্ষার প্রবেশে সহায়ক হবে। আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তার আগে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে বুধবার নাগাদ একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। সেটি তারপর কিছুটা শক্তি বৃদ্ধি করবে। কিন্তু এর প্রভাবে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের যেসব এলাকায় ইতিমধ্যেই বর্ষা ঢুকে পড়েছে সেখানে বৃষ্টি বেশি হবে। এই পূর্বভাস একটি বেসরকারি সংস্থার। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরও ১০-১৪ জুন সময়কালে উপকূলবর্তী অন্ধ্র, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক প্রভৃতি জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস আপাতত কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর দেয়নি। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ১১-১২ জুন ও বিহার-ঝাড়খণ্ডে ১১-১৪ জুন সময়ে হাল্কা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি বাড়বে। জানাচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর।
গত ২৯ মে’র পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু একই জায়গায় থমকে আছে। দেশের যেসব অংশে (উত্তরবঙ্গসহ) বর্ষা ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছে, তা সক্রিয় নয় সেখানেও। রবিবার কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর গোটা দেশের জন্য যে পূর্বাভাস জারি করেছে তাতে বর্ষার অগ্রগতি নিয়ে কিছু বলা হয়নি। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মরশুমে বঙ্গোপসাগরে গড়ে ১০-১২টি নিম্নচাপ-ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়। বর্ষার সক্রিয়তা ও অগ্রগতি নির্ভর করে এগুলির গতিপ্রকৃতির উপর। নিম্নচাপগুলি বঙ্গোপসাগরে কোন জায়গায় তৈরি হয়ে কোনদিকে এগচ্ছে তার উপর নির্ভর করে এর প্রভাব কোন জায়গায় বেশি পড়বে। এর ভিত্তিতে বর্ষার অগ্রগতি ও তার সক্রিয়তা নিয়ে পূর্বাভাস দিয়ে থাকে আবহাওয়া দপ্তর। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূল দিয়ে অনেক নিম্নচাপ ঢুকে মধ্য ভারতের দিকে চলে যায়। তখন বেশি বৃষ্টি পায় মধ্য ভারতের ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। আবার পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূল দিয়ে কোনও নিম্নচাপ ঢুকলে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ে।
বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থাটি মনে করছে, ১১-১২ জুন নাগাদ বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণাবর্তটি তৈরি হতে চলেছে সেটির প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গসহ পূর্ব ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়বে। কিন্তু বর্ষাকালে একসঙ্গে বড় এলাকা জুড়ে ভারী বৃষ্টি বলতে যা বোঝায় তার জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। ১৪-১৫ জুন নাগাদ বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে সেটি বর্ষার ভারী বৃষ্টিকে দেশের এই অংশে নিয়ে আসবে সেরকম সম্ভাবনা আছে বলেই জানানো হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরও আপাতত ১১-১২ জুন কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির মাত্রা বাড়বে। আপাতত এমন পূর্বাভাস দিয়েছে।