এনআইএ ও সুপ্রিম কোর্টের কর্তা সেজে সাইবার প্রতারণা
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ফের ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-র ফাঁদ! বহরমপুরের একটি পরিবারের থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, এনআইএর এডিজি এবং সুপ্রিমকোর্টের উচ্চপদস্থ আধিকারিক সেজে ওই পরিবারের প্রায় সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি, সোনার গয়না বন্ধক রেখে প্রতারকদের টাকা পাঠিয়েছে আতঙ্কিত পরিবার। এই ঘটনায় বহরমপুর থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। আবার, কেওয়াইসি আপডেটের নামে বহরমপুরের এক প্রৌঢ়ের কাছ থেকে দেড়লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, বহরমপুরের বিষ্ণুপুর রোডের ওই পরিবারের এক ব্যক্তির সঙ্গে গত ২সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে প্রতারকরা। তাঁদের ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়েছে বলে ভয় দেখায়। প্রতারকরা এনআইএর এডিজি ও শীর্ষ আদালতের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে দাবি করে, বহরমপুরের ওই ব্যক্তির পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মুম্বইয়ের একটি মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। সেই লেনদেনের মাধ্যমে এই পরিবারের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের চরম মানসিক চাপে ফেলতে প্রতারকরা তাঁদের লাগাতার ভিডিয়োয় নজরদারিতে রাখে। অবিলম্বে গ্রেপ্তারের হুমকিও দেওয়া হয়। ‘মামলা’র গোপনীয়তা বজায় রাখার অজুহাতে তাঁদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তাঁরা যেন এবিষয়ে আর কারো সঙ্গে আলোচনা না করেন।
প্রতারকদের লাগাতার হুমকির মুখে পড়ে আতঙ্কিত পরিবারটি তাদের সমস্ত কথা মেনে নেয়। এরপরই ধাপে ধাপে আর্থিক প্রতারণা শুরু হয়। কয়েক দফায় ওই পরিবারের সমস্ত সঞ্চিত সম্পদ হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। ওই পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ছ’লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে ফেলা হয়। আরটিজিএস-এর মাধ্যমে ৩০লক্ষ টাকা সাইবার প্রতারকদের পাঠানো হয়। পোস্ট অফিসের প্রবীণ নাগরিক সঞ্চয় প্রকল্পের অ্যাকাউন্ট মেয়াদের আগেই বন্ধ করে ছয় লক্ষ টাকা তুলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি, একটি বেসরকারি সংস্থায় পরিবারের সোনার গয়না বন্ধক রেখে ১০লক্ষ টাকার ঋণ নেওয়া হয়। এভাবে প্রায় ৪৬লক্ষ টাকা ওই প্রতারকদের হাতে তুলে দেন পরিবারের সদস্যরা।
বহরমপুর থানার এক আধিকারিক বলেন, আমরা মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছি। ওই পরিবারের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে আগে থানায় আসেননি। এধরনের ঘটনা পুলিশকে আগে জানানো উচিত। মানুষকে সচেতন হতে হবে।
এদিকে, বহরমপুরের এক প্রৌঢ়কে গত ১০সেপ্টেম্বর ব্যাংকের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ফোন করে। অভিযোগ, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি আপডেট করার অজুহাতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে ওটিপি হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপরই তাঁর বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দেড়লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক। সোমবার এঘটনায় বহরমপুর থানায় মামলা রুজু হয়েছে। ১৪সেপ্টেম্বর ওই ব্যক্তি সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেন। অবশেষে সোমবার তিনি বহরমপুর থানায় অভিযোগ জানান। টাকা খুইয়ে প্রচণ্ড অবসাদ ও দুশ্চিন্তার কারণে ওই প্রৌঢ়ের বহরমপুর থানায় মূল অভিযোগ জানাতে দেরি হয়েছে। 
তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, প্রৌঢ়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে এই প্রতারণা করা হয়েছে। মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কাউকে ওটিপি দেওয়া যাবে না। ফোনে জানতে চাইলে তো একেবারেই নয়।