শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: এরাজ্যের বিজেপি বিধায়কদের ফোন হ্যাক করে টাকা আদায়ের ঘটনায় মূল চক্রীকে বিহারের শেখপুরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করল তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। ধৃতের নাম অজয় যাদব। সোমবার অজয়কে গ্রেপ্তার করে তমলুকে আনা হয়। পাশাপাশি যে সিম কার্ড থেকে হ্যাক করা হয়েছিল সেই সিমকার্ডও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পাঁশকুড়া পূর্বের বিধায়ক সুব্রত মাইতি, বাঁকুড়ার ইন্দাসের বিধায়ক নির্মল ধাড়া সহ বেশ কয়েকজনের ফোন হ্যাক করার মাস্টারমাইন্ড অজয়। বিধায়কদের ফোন হ্যাক করার পর বিপদে পড়ার অছিলায় স্ক্যানার পাঠিয়ে টাকা চাওয়া হত। অনেকে ভুল বুঝে স্ক্যানারে টাকা পাঠিয়েও দিতেন। পাঁশকুড়া পূর্বের বিধায়ক সুব্রতবাবু এনিয়ে থানায় এফআইআর করার পরই ওই টিমকে পাকড়াও করতে সক্রিয় হয় পুলিশ। সোমবার তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার একটি দল বিহার থেকে অভিযুক্তকে জালে তুলেছে। ধৃতকে সোমবার পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের ছ’দিন পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। গত ৮জুলাই পাঁশকুড়া পূর্বের বিধায়ক সুব্রতবাবুর ফোন হ্যাক করে সাইবার অপরাধীরা। তারপরই হোয়াটসঅ্যাপে পরিচিতদের নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে টাকা চাওয়া হয়। স্ক্যানারে টাকা দিতে আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর সহ বেশ কয়েকজন। সোমাদেবী ওই অ্যাকাউন্টে ২০হাজার টাকা দিয়েছিলেন বলে বিধায়ক সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশকে জানিয়েছেন। এছাড়া আরও একজন ২৮হাজার টাকা দিয়ে দেন।যদিও সুব্রতবাবু ফোন হ্যাক হওয়ার বিষয়টি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে কাউকে এধরনের আবেদনে সাড়া না দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। কোলাঘাট থানার সাইবার সেলে বসে তিনি ভিডিও বার্তা ছড়িয়েছিলেন। তার আগেই বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেয় সাইবার অপরাধী। একইভাবে বাঁকুড়ার ইন্দাসের বিধায়ক বিজেপির নির্মল ধাড়ার মোবাইলও হ্যাক করে টাকা তোলা হয়েছে অজয়ের ব্যবহৃত সিমকার্ড থেকেই। সাইবার অপরাধীরা সরাসরি বিধায়কদের টার্গেট করায় তাঁরাও বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। এনিয়ে তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই পুলিশ হ্যাকারের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করে। দেখা যায়, বিহার থেকেই এই অপারেশন সারা হয়েছে। সিম কার্ড নম্বর শনাক্ত করেই তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশের একটি দল বিহারে পৌঁছে গিয়েছিল। সেখান থেকেই অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। একইসঙ্গে সিম কার্ডও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সুব্রতবাবু বলেন, বিধায়কদের টার্গেট করে যেভাবে প্রতারণা করা হচ্ছিল আমাদের প্রত্যেকের কাছে উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। আমাদের এনিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সচেতনতাই এধরনের ঘটনা আটকাতে পারে।



