আবেদনপত্রে সাইবার কাফের নম্বর! সিএএ শুনানিতে হাজির করাতে বিপাকে প্রশাসন
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: নাগরিকত্ব পেতে আবেদন করেছেন।  অথচ সেই আবেদনে পত্রে নিজের মোবাইল নম্বর না দিয়ে দেওয়া হয়েছে সাইবার কাফে ফোন নম্বর। তাতে ঘটছে বিপত্তি। শুনানির জন্য ডাক পাঠাতে গিয়েই সমস্যায় পড়ছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত তালিকা তৈরি করে গ্রাম পঞ্চায়েত ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আবেদনকারীদের খুঁজে শুনানিতে হাজির করানোর উদ্যোগ নিতে হচ্ছে প্রশাসনকে। নদীয়ায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর অধীনে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর শুনানি শুরু হতেই সামনে এসেছে এই সমস্যা।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে খবর, নদীয়ার চারটি মহকুমাতেই চলছে সিএএ’র শুনানি। প্রতিদিন প্রতিটি মহকুমায় প্রায় ৫০০ জন করে আবেদনকারীকে ডাকার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু আবেদনপত্রে দেওয়া যোগাযোগের নম্বর যাচাই করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই তা আবেদনকারীর নিজের নয়। স্থানীয় সাইবার কাফের মাধ্যমে আবেদন করার সময় অনেকে কাফের ফোন নম্বরই ব্যবহার করেছেন। ফলে শুনানির তারিখ ও প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে আবেদনকারীদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে বিকল্প পথ নিতে হচ্ছে প্রশাসনকে। গ্রাম পঞ্চায়েত, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সূত্র ধরে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘ভালো সংখ্যায় আবেদনকারী শুনানিতে উপস্থিত হচ্ছেন। আধিকারিকরা শুনানি করছেন। আবেদনকারীদের জন্য শুনানি কেন্দ্রে সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ তবে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফোন নম্বরের এই সমস্যা শুনানি প্রক্রিয়ায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত।
পুজোর আগেই নদীয়ায় সিএএ’র শুনানি শুরু হয়। রাজ্যের মধ্যে এই জেলাতেই আবেদনকারীর সংখ্যা সর্বাধিক। প্রায় ৮৫ হাজারেরও বেশি আবেদনকারীর শুনানি করতে হবে প্রশাসনকে। এর আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার আবেদনকারীর শুনানি হয়েছে। শুনানির পাশাপাশি নথিপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে আবেদনকারীদের। এখন আগের তিনটি হলফনামার পাশাপাশি এবার চতুর্থ একটি হলফনামাও জমা দিতে হবে। নোটারির মাধ্যমে তৈরি এই হলফনামায় আগের তিনটি হলফনামার বিষয়বস্তু কার্যত একত্র করে দিতে হবে। শুনানির দিন অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথির সঙ্গে সেটিও জমা দিতে হবে আবেদনকারীদের।
নির্বাচনের আগে বিজেপির তরফেও বিভিন্ন জায়গায় শিবির করে সিএএ-তে আবেদন করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নদীয়া দক্ষিণের বিজেপি সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন ‘আমরা মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা দিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনেক আগেই সেই কাজ শুরু করেছিলেন। তখন ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চলছিল। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠার পরে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের মাধ্যমে সেই কাজ শুরু করেছেন।’
বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আসা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে সিএএ কার্যকর করেছে কেন্দ্র। দীর্ঘ রাজনৈতিক বিতর্কের পরে পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া এগচ্ছে। তবে নদীয়ার মতো জেলায়, যেখানে আবেদনকারীর সংখ্যা বিপুল, সেখানে শুনানির কাজে গতি আনতে আবেদনকারীদের সঙ্গে নির্ভুল যোগাযোগ নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।