সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: দুঃস্থ কিংবা ধনী। সবার হেঁসেলে জিরে চাই-ই চাই। বেশিরভাগ রান্নায় ব্যবহার হওয়া এই মশলা আমাদের রাজ্যে সেভাবে উৎপাদন হয় না। গুজরাত, রাজস্থান প্রভৃতি রাজ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। তাই এরাজ্যের আবহাওয়ায় উৎপাদন করা সম্ভব কি না, সেই পরীক্ষায় নেমেছে তালডাংরার হর্টিকালচার ফার্ম। সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে জিরের চাষ শুরু হয়েছে। সেই গাছে ফুল ধরতেই কর্মকর্তারা আশার আলো দেখছেন। যদিও ফলন কেমন হয় সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
তালডাংরায় জিরে চাষের পরিকল্পনায় মুখ্য ভুমিকায় রয়েছেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ডিন তথা রাজ্য হর্টিকালচার অ্যাডভাইসরি কমিটির সদস্য তপনকুমার মাইতি। তিনি বলেন, গুজরাত ও রাজস্থানের সঙ্গে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার আবহাওয়ার অনেকটাই মিল রয়েছে। সেই চিন্তাভাবনা থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে জিরে চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ন্যাশনাল স্পাইস রিসার্চ সেন্টার থেকে বীজ পেতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তারপর তা লাগাতে মরশুম কিছুটা গড়িয়ে গিয়েছে। তবুও এখন গাছে ফুল এসেছে। এটা খুবই আশাপ্রদ ব্যাপার। ফুল এসেছে মানে ফল হবেই। এখন ফলন কেমন হয় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছি। ফলন ভালো হলে আগামী দিনে চাষিদের কাছে মশলার বাজারে নতুন এক দিগন্ত খুলে যাবে।
এব্যাপারে হর্টিকালচার অ্যাডভাইসরি কমিটির অপর সদস্য শুভাশিস বটব্যাল বলেন, আমরা বাঁকুড়ায় বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষে সফল হয়েছি। এবার তালডাংরা হর্টিকালচার ফার্মে পরীক্ষামূলকভাবে জিরে চাষ করা হয়েছে। আশা করছি, সাফল্য আসবে। এখন ভিনরাজ্য থেকে জিরে আমদানি করতে হয়। তাতে জিরার অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে। কিন্তু বাংলার প্রতিটি হেঁসেলে জিরা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি মশলা। তাই আমাদের বাঁকুড়ায় জিরে চাষ হলে আগামী দিনে এখানকার চাষিরা লাভবান হবেন। স্বাভাবিকভাবে দামও কমবে।
তপনবাবু বলেন, চাষিরা অনেক সময় নির্দিষ্ট কয়েকটি ফসলের উপর সকলেই ঝোঁকেন। তাতে জোগান বেড়ে যায়। চাহিদা কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হয়। তাই জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ করলে ক্ষতির আশঙ্কা কম। বাঁকুড়ায় অনেক ধরনের অপ্রচলিত অথচ দামি ফলের চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। সেগুলি ইতিমধ্যে পরীক্ষা করে সফল হওয়া গিয়েছে। সব্জির মধ্যে রঙিন ফুলকপি উৎপাদনেরও সাফল্য এসেছে। এবার পরীক্ষামূলকভাবে জিরে চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে বাঁকুড়ার মাটিতে সারা বছর গাঁদা ফুলের চাষ করা যেতে পারে। তারও পরীক্ষা চলছে। সব মিলিয়ে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মাটিতে বহু ফসল ফলানোর সম্ভাবনা রয়েছে। চাষিরা এগিয়ে এলে তাতে সাফল্য আসবে। -নিজস্ব চিত্র