Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্নাতকের পরীক্ষার আগেই স্নাতকোত্তরের প্রবেশিকা নিতে চায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

স্নাতক স্তরের পাশাপাশি স্নাতকোত্তরে আসন পূরণ করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সামনে। তাই এবার তাড়াতাড়ি আসন পূরণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

স্নাতকের পরীক্ষার আগেই স্নাতকোত্তরের প্রবেশিকা নিতে চায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্নাতক স্তরের পাশাপাশি স্নাতকোত্তরে আসন পূরণ করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সামনে। তাই এবার তাড়াতাড়ি আসন পূরণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। স্নাতক স্তরের ষষ্ঠ সেমেস্টারের পরীক্ষার আগেই স্নাতকোত্তরে ভরতির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে ফেলতে চাইছে তারা। শুক্রবার একটি বৈঠকে ঠিক হয়েছে, মে মাসে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এদিকে, ষষ্ঠ সেমেস্টারের পরীক্ষা রয়েছে জুনে। স্নাতক এবং প্রবেশিকার ফলপ্রকাশ করে ভরতি সম্পন্ন করে জুলাই থেকেই ক্লাস চালু করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়। এদিন ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফ্যাকাল্টির বৈঠক। ঠিক হয়েছে সব বিষয়েই প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হবে ছাত্রছাত্রীদের। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের তো বটেই, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদেরও এতে বসা বাধ্যতামূলক। স্নাতকে প্রাপ্ত নম্বরের মধ্যে প্রবেশিকার নম্বরে ওয়েটেজ দিয়ে মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। নিজস্ব ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৬০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকে। বাকি ৪০ শতাংশ আসনে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হবে কলকাতার ছাত্রছাত্রীদের। এখনো সিদ্ধান্ত না-হলেও একই পদ্ধতিতে পড়ুয়া ভরতি করা হবে অন্যান্য ফ্যাকাল্টিতেও। ওয়াকিবহাল মহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এতে পরিস্থিতির খুব উন্নতি হবে বলে আশাবাদী নয়। এক অধ্যাপক জানান, বাংলা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আসন ৪৫০টির আশপাশে। এর জন্য গতবছর প্রবেশিকায় বসেছিলেন মাত্র ৭৫০ জন ছাত্রছাত্রী। সবশেষে আসন পূরণ করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরে, আসন পূরণের জন্য আর সেভাবে মান যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কোনোরকমে জেনারেলের আসন পূরণ হলেও সংরক্ষিত আসনের প্রায় ৮০টি ফাঁকাই থেকে যায়। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় মান নামিয়ে ফেলায় স্নাতকোত্তর কোর্স চালানো কলেজগুলি সমস্যায় পড়ে। সেখানে ভরতি হয়েও পরে ছেড়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন বহু ছাত্রছাত্রী। ফলে, কলেজগুলি খালি হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলিতেও বাংলা বিষয়ে প্রায় ৪৫০টি আসন রয়েছে। অন্যান্য বহু বিষয়েও প্রায় একই ছবি। অনেকেই বলছেন, আসনই যেখানে পূরণ হচ্ছে না, সেখানে প্রবেশিকার গুরুত্ব সেভাবে নেই। শেষ মুহূর্তে যখন নিম্নমানের পড়ুয়া দিয়েই আসন পূরণ করতে হবে, তখন আগেভাবে স্নাতকের নম্বরের ভিত্তিতেই তা করা হোক। এদিকে, কোন কোন কলেজে ‘অনার্স উইথ রিসার্চ’ কোর্সের অনুমতি দেওয়া হবে, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হবে পরিকাঠামো, শিক্ষক সংখ্যা যাচাই। প্রয়োজনে পরিদর্শনও হবে বলে জানা গিয়েছে। জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুযায়ী, চারবছরের স্নাতক কোর্সের প্রথম তিনবছরে ৭৫ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর থাকলে এই ডিগ্রি পেতে পারেন ছাত্রছাত্রীরা। এর জন্য চতুর্থ বছরটি হবে মূলত গবেষণাকেন্দ্রীক। তাতে সফল হলে ডিগ্রির পাশাপাশি মাস্টার ডিগ্রি ছাড়াই সরাসরি পিএইচডি কোর্সে ঢুকে যাওয়া যাবে বহু বিষয়ের ক্ষেত্রেই। তবে, গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং স্থায়ী অধ্যাপক রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। মূলত, ২০২৩ সালে যাঁরা স্নাতকে ভরতি হয়েছেন, তাঁদের এটাই তৃতীয় বছর। ফলে, এবার তাঁদের সেই সুযোগ দিতে হবে। তাই এ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে এগোতে চাইছে বিশ্ববিদ্যালয়।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ