নিজস্ব প্রতিনিধি, খাতড়া: বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের প্রধান ভরসা খাতড়া মহকুমা হাসপাতাল কার্যত খুঁড়িয়ে চলছে। রোগীদের দ্রুত রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান ও ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন থাকা জরুরি। ওই দু’টি মেশিনের জন্য বেশ কয়েকবার তদ্বির করেও কাজের কাজ হয়নি বলে খোদ হাসপাতাল সুপার দাবি করেছেন। মেশিনের পাশাপাশি খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় শয্যার সংখ্যাও অনেক কম রয়েছে। বেডের সংখ্যা কম থাকায় প্রসূতি ওয়ার্ডে মেঝেতে মায়েদের রাখতে হয়। কিছুদিন আগে ওই ওয়ার্ডের বারান্দায় কাতরাতে থাকা এক অন্তঃসত্ত্বা পরে মৃত সন্তান প্রসব করেন। ওই ঘটনায় পরিকাঠামোর অভাবের অভিযোগ তুলে প্রসূতির পরিবারের লোকজন তুমুল বিক্ষোভ দেখান। চিকিৎসক-নার্সদের বিরুদ্ধেও তাঁরা বিস্তর অভিযোগ তোলেন। বেহাল পরিকাঠামোর কারণে তাঁরা নিরুপায় বলে চিকিৎসক-নার্সরা জানান।
খাতড়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার অসিতকুমার হেমব্রম বলেন, সিটি স্ক্যান ও ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দেওয়ার জন্য আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। তবে এখনও পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি। তার ফলে রোগীদের চরম সমস্যা হচ্ছে। বেড কম থাকায় প্রসূতি ওয়ার্ডে মেঝেতেও রোগীদের রাখতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। বাঁকুড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন বলেন, কোনও হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন বসানোর জন্য অন্তত ২০০টি বেড থাকতে হয়। খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে বেডের সংখ্যা দু’শোর কম। ফলে সেখানে সিটি স্ক্যানের মেশিন বসানো যাচ্ছে না। তবে ওই মহকুমা হাসপাতালে বেড সংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মেডিকেল সার্ভিস কর্পোরেশন লিমিটেডের মাধ্যমে মেশিন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শীঘ্রই সেখানে ওই পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী। হাসপাতালে সামগ্রিকভাবে বেড সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রসূতি বিভাগেও তা বাড়বে। তখন আর সমস্যা হবে না।
রানিবাঁধের বাসিন্দা বিপিন সর্দার, খাতড়ার চিন্তাহরণ মাহাত বলেন, জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে খাতড়া মহকুমা হাসপাতালের গুরুত্ব অনেক। মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় দুর্ঘটনায় জখমদের প্রথমে ওই হাসপাতালেই আনা হয়। অন্তঃসত্ত্বা মায়েদেরও সেখানে সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার জন্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। জঙ্গলমহলে বহু গরিব মানুষ বাস করে। তাদের পক্ষে বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিজনদের রেখে চিকিৎসা করানো অনেক সময় সম্ভব হয় না। অনেকের পক্ষে দিনমজুরের কাজ বন্ধ রেখে বাঁকুড়ায় যাতায়াতের ভাড়া জোগাড় করা মুশকিল হয়। ফলে সরকারের এদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাঁরা আরও বলেন, অন্যান্য জায়গায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হলেও খাতড়া মহকুমা হাসপাতাল সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আধিকারিকরাও খাতড়া মহকুমা হাসপাতাল নিয়ে উদাসীন রয়েছেন। বিধানসভা ভোটের আগে বিষয়টি নিয়ে সকলের চিন্তাভাবনা করা উচিত।
খাতড়া মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, হাসপাতালের সমস্যা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।