নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: নববর্ষের প্রথম দিনে জনসমুদ্রের রূপ নিল দক্ষিণেশ্বর। চাঁদিফাটা গরম উপেক্ষা করে মায়ের রূপ দর্শনে ক্লান্তিহীন ছিলেন ভক্তরা। পরিবারের মঙ্গল কামনার পাশাপাশি হালখাতা করেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো ভক্ত। মন্দির চত্বর ও গঙ্গার ঘাটে পুলিসি নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো।
মঙ্গলবার সূর্য ওঠার কয়েক ঘণ্টা আগেই মা ভবতারিণী মন্দিরের গেটে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। রাত তিনটে থেকে শুরু হওয়া লাইন পাল্লা দিয়ে সারা দিন বেড়েছে। বরানগর, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, পানিহাটির বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফেও দিনটি পালন করা হয়।
হাওড়া জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে নিউ কালেক্টরেট ভবনে নাচ, গান, আবৃত্তির মধ্য দিয়ে বাংলা দিবস উদযাপিত হয়। পাশাপাশি, গত ৪৭ বছরের প্রথা মেনে ডোমজুড়ে রুদ্রপুর দামালির মাঠ মা মনসা মন্দির কমিটির তরফে বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাঁচশোরও বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। তারকেশ্বর মন্দিরে পুণ্যার্থীদের নজরকারা ভিড় ছিল। ব্যবসায়ীরাও নতুন খাতা পুজো করাতে ভিড় জমান মন্দিরে। উলুবেড়িয়া পুরসভার পক্ষ থেকে প্রভাতফেরির আয়োজন করা হয়। ছিলেন বিধায়ক বিদেশ বসু, উলুবেড়িয়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ইনামুর রহমান। ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উলুবেড়িয়া শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়িতে পুজো দেওয়ার জন্য ভক্তদের লম্বা লাইন লক্ষ করা যায়। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে নববর্ষ পালিত হয় হুগলিতে। বিধায়ক অসিত মজুমদারের উদ্যোগে বাংলা দিবস ও নববর্ষ অনুষ্ঠান হয় চুঁচুড়ার ঘড়ি মোড়ে।
হাবড়া শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে তৃণমূল। নেতৃত্বে বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। মহিলা ও পুরুষ ঢাকি দলের সঙ্গে হাতে কুলো এবং পাখা নিয়ে শোভাযাত্রায় হেঁটেছে তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেড। জ্যোতিপ্রিয় বলেন, সম্প্রীতির বাংলায় বিভেদ সৃষ্টি করে লাভ হবে না। পূর্ব খিলকাপুর পঞ্চায়েতের বড়বড়িয়া এলাকায় গর্ভবতীদের পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ।
নতুন বছরকে বরণ করতে রথযাত্রায় মেতেছে কাকদ্বীপবাসী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গৌড়ীয় মঠের উদ্যোগে রথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। মঠের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ব্রজবিনোদ দাস অধিকারী বলেন, ‘৩০ বছর ধরে এই প্রথা চলছে।’ নাচ গান সহযোগে প্রভাতফেরির মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নিলেন বারুইপুর প্রেস ক্লাবের সদস্যরা। প্রতিবছরের মতো এবারও বারুইপুর প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে নববর্ষের প্রথম সকালে আয়োজন হয়েছিল প্রভাত ফেরির। মঙ্গলবার, পয়লা বৈশাখ সকাল সাড়ে সাতটায় বারুইপুর উড়ালপুল সংলগ্ন সোনার তরী কমিউনিটি হলের সামনে থেকে শুরু হয় পদযাত্রা। নাচ-গান, পথচলতি মানুষজনের সঙ্গে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে করতে এগিয়ে চলে পদযাত্রা।