সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: দিনভর প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে মনসা পূজো উপলক্ষ্যে হাঁস কিনতে উপচে পড়ল ভিড়। পুরুলিয়া শহরে কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার উপরে কেউ রেইনকোট পরে, কেউ আবার ছাতা মাথায় নিয়ে লাইন দিয়ে হাঁস কিনলেন। তবে এবার দাম ছিল নাগালের মধ্যেই।
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: দিনভর প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে মনসা পূজো উপলক্ষ্যে হাঁস কিনতে উপচে পড়ল ভিড়। পুরুলিয়া শহরে কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার উপরে কেউ রেইনকোট পরে, কেউ আবার ছাতা মাথায় নিয়ে লাইন দিয়ে হাঁস কিনলেন। তবে এবার দাম ছিল নাগালের মধ্যেই।
মঙ্গলবার মনসা পুজো উপলক্ষ্যে কয়েকলক্ষ টাকার হাঁস বিক্রি হল পুরুলিয়া জেলা জুড়ে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে টানা বৃষ্টির মধ্যেও জেলার অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে পুরুলিয়া শহরেও দেদার বিক্রি হল হাঁস। তবে বাজারে ক্যাম্বেল হাঁসের সংখ্যাই ছিল বেশি। নাম মাত্র থাকা দেশি হাঁস চড়া দামে বিক্রিও হয়। অন্যদিকে মনসা পুজোতে এবার স্কুল-কলেজের পাশাপাশি সরকারি অফিসও ছুটি থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে পুজোকে ঘিরে উৎসাহ যেন বাড়তি মাত্রা পেয়েছে।
পুরুলিয়া জেলার প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই মনসা পুজোতে ব্যাপক উন্মাদনা চোখে পড়ে। ভিন রাজ্যে কাজে থাকা শ্রমিক থেকে শুরু করে পুরুলিয়া শহরে বিভিন্ন দোকান-বাজারে কাজ করা মজুরেরাও মনসা পুজোতে ছুটি নিয়ে গ্রামের পুজোতে মেতে ওঠেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোথাও মন্ডপে, আবার কোথাও বাড়ির উঠোনেই তুলসীতলাতেই মনসা পুজো করেন বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও আবার মনসামঙ্গল পাঠেরও আয়োজনও করা হয়। রাতভর চলে সেই অনুষ্ঠান। মনসা পুজোতে মানত করে পাঁঠা বলির পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে কার্যত ঘরে ঘরে হাঁস বলি হয়। সেই উপলক্ষ্যেই এদিন পুরুলিয়া শহর সহ জেলাজুড়ে প্রচুর হাঁস কেনাবেচা হয়। কয়েকলক্ষ টাকার কারবার হয়। এদিন পুরুলিয়া শহরে হাঁস কেনার পর সিন্দারপট্টির বাসিন্দা সমীর বাউরি বলেন, ৩৫০ টাকা দিয়ে একটি হাঁস কিনেছি। ছোট বাচ্চা হাঁসগুলি ৩০০ টাকাতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেগুলির পরিবর্তে বড় হাঁস কেনার ঝোঁকই বেশি। তিনি আরও বলেন, টানা বৃষ্টিতে ছাতা থাকলেও পুরো ভিজে গিয়েছি। কিন্তু ভিজে গেলেও মনসা পুজোতে হাঁস তো লাগবেই। তিনি আরও বলেন, দেশি হাঁসের চাহিদা প্রতিবছরই বেশি থাকে। চাহিদা অনুযায়ী দেশি হাঁসের জোগান নেই বললেই চলে। হাঁস বিক্রেতা উত্তম গড়াই বলেন, ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকাতে হাঁস বিক্রি হচ্ছে। তারপর আবার নর হাঁস সবাই কিনতে চাইছেন। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া হাঁস অনেকেই নিতে চাইছেন না। পরে খানিকটা কম দামে বিক্রি হয়েছে। নিজস্ব চিত্র