Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহিষাদলে জমজমাট রথের মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ব্যাপক ভিড়

মহিষাদলের রথের মেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়। এবছর কিউ আর কোডের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য তথ্যের আধুনিকতা। বিস্তারিত পড়ুন।

মহিষাদলে জমজমাট রথের মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ব্যাপক ভিড়
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামল সেন, হলদিয়া: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে জমে উঠেছে মহিষাদলের শতাব্দীপ্রাচীন রথের মেলা। রথের ইতিহাস ও মেলার খুঁটিনাটি জানতে এবছরই প্রথম রথের মেলার কিউ আর কোড চালু হয়েছে। মহিষাদলের জনবহুল স্থানে, বাসস্টপে, মেলা প্রাঙ্গণে বড় আকারে ওই বারকোড বোর্ড লাগানো রয়েছে। ওই ছবি স্ক্যান করলেই যেমন মিলবে কোন পথে কীভাবে মেলা দর্শনার্থীরা ঢুকবেন, কোথায় কোন দোকান, রাজবাড়ির ইতিহাস, আবার মাসিরবাড়িতে কীভাবে কখন পৌঁছলে জগন্নাথদেবের প্রসাদ মিলবে, সেইসব তথ্য। মেলার এই আধুনিক চেহারার সঙ্গে রথের কাঁঠাল, পাখি, চারাগাছ, বাঁশ ও বেতের নানা সরঞ্জামের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য মিলেমিশে একাকার। মহিষাদলের রথ বিখ্যাত মেলার জন্য। এবছর রথের মেলা আকারে আরও বেড়েছে বলে দাবি রথ কমিটির। রথযাত্রা যৌথভাবে আয়োজন করে মহিষাদল ব্লক প্রশাসন, পঞ্চায়েত সমিতি, পুলিশ, স্থানীয় মানুষ এবং রাজ পরিবারের সদস্যরা। এবছর মেলার প্রধান উপদেষ্টা প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। রথ সড়ক, রাজবাড়ির ছোলাবাড়ি ময়দান, আমবাগান এবং রাজ কলেজের সড়কপথজুড়ে বিশাল রথের মেলা বসেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের ভিড় হচ্ছে। ছোলাবাড়ি চত্বরে খাবার দোকানগুলিতে ভিড় উপচে পড়ছে।

Advertisement

রথের মূল আকর্ষণ কাঁঠাল ও রঙিন পাখি। প্রতিবারের মতো এবারও পাখিমেলা ও গাছের মেলায় প্রচুর ভিড়। রথ দেখার সঙ্গে পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ রাজবাড়ি ও মিউজিয়াম। বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজা বলেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পুলিশ ও ভলান্টিয়ার রাখা হয়েছে। নজরদারির জন্য দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলা প্রাঙ্গণ সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। রথের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখার জন্য পুরনো বাসস্টপ, সিনেমামোড়, ছোলাবাড়ি ও রথতলা এলাকায় চারটি জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো হয়েছে। রাজ পরিবারের সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ বলেন, রাজবাড়ির রথ এখন মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তবে রাজবাড়ির রীতিনীতি মেনেই রথ ও মাসিরবাড়িতে পুজো হচ্ছে। প্রতিদিনই কুলদেবতা মদনগোপালজিউকে নানারূপে সাজিয়ে পুজো করা হচ্ছে এবং ভোগনিবেদন হয়। রথ পরিচালন কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা সুন্দরানন্দ গুড়িয়া, সোমনাথ বক্সি বলেন, এবছর জগন্নাথদেবের মাসিরবাড়ি গুণ্ডিচাবাটিতে ভোগপ্রসাদ পেতে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়েছে। প্রসাদের জন্য ৩০টাকার টিকিট কাটতে হচ্ছে। প্রতিদিন এক হাজারের বেশি দর্শনার্থীকে মন্দির প্রাঙ্গণে বসিয়ে প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে। রথযাত্রা উপলক্ষে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত আটদিন ধরে গুণ্ডিচাবাটিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। রথের সাংস্কৃতিক কমিটি কর্মকর্তা তাপস মন্ত্রী, ওম পাল, গার্গী ভট্টাচার্য, অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, এবার মহিষাদলের স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে রথের অনুষ্ঠান হচ্ছে। সমবেত সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তির অনুষ্ঠানগুলিতে শিল্পীরা মাতিয়ে দিচ্ছেন। রবিবার কবি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রথ উপলক্ষে ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি পত্রিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গানে মুগ্ধ করেছেন পরিচিতা চক্রবর্তী, পারিজাত প্রধান প্রমুখ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ