Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হিঙ্গলগঞ্জে অভিষেকের জনসভায় জনস্রোত, মহিলাদের ভরসা জোড়াফুলই

হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালির নদীঘেরা মাটিতে শুক্রবার সবুজ-সাদা ঢেউ। তৃণমুলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ছিল সেখানে।

হিঙ্গলগঞ্জে অভিষেকের জনসভায় জনস্রোত, মহিলাদের ভরসা জোড়াফুলই
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

সুজয় মণ্ডল, বসিরহাট: হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালির নদীঘেরা মাটিতে শুক্রবার সবুজ-সাদা ঢেউ। তৃণমুলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ছিল সেখানে। সকাল থেকেই সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসা শুরু করেন সভাস্থলে। নদীপথ এখানে অন্যতম ভরসা। সে পথে একের পর এক নৌকায় মানুষ আসা শুরু করেন। বেলা যত গড়িয়েছে, তত বেড়েছে ভিড়। ভরদুপুরেই লেবুখালি রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত।

Advertisement

হাসনাবাদ থেকে লেবুখালি পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে চোখে পড়েছে মহিলাদের দীর্ঘ মিছিল। শঙ্খধ্বনি, তৃণমূলের পতাকা আর স্লোগানে মুখর সে মিছিল কার্যত চমকে দিয়েছে সকলকে। মিছিলে ছিলেন সন্দেশখালি আন্দোলনের সময় আলোচনায় উঠে আসা একাধিক প্রতিবাদী মহিলা। তাঁদের গলায় এদিন শোনা গিয়েছে বিজেপি বিরোধিতার তীব্র সুর। মিছিলে থাকা শিখা মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামানো হয়েছিল। পরে আমরা বুঝতে পারি কারা আমাদের ব্যবহার করেছে। এখন আবার নিজের ঘরে ফিরেছি। সরকার যে প্রকল্প দিয়েছে তাতে আমাদের সংসার অনেকটা স্বস্তিতে চলছে।’ পার্বতী দাসের কথায়, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে একাধিক প্রকল্পে আমরা সরাসরি উপকৃত। তাই দুলদুলি থেকে আমরা এসেছি মমতার সেনাপতিকে দেখতে।’ সভায় আসা মধুমিতা গায়েনের চোখেমুখে উচ্ছ্বাস। তাঁর দাবি, ‘সকাল সকাল রান্না সেরে গ্রাম থেকে সবাই মিলে নৌকা করে এসেছি।’
জানা গিয়েছে, ভিড়ের চাপে অনেকে সভামঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছতেই পারেননি। দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ যখন লেবুখালির মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখনও বহু মানুষ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে। মাইক বেজে উঠতেই হাততালিতে ফেটে পড়েছে জনতা। কেউ কেউ মোবাইলে রেকর্ড করেছেন বক্তব্য। সরাসরি সভাস্থলে না পৌঁছতে পেরেও আবেগে ভেসেছেন অনেকে।  মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, ‘মঞ্চের বাইরে হেলিপ্যাডে বিপুল সংখ্যক মানুষ দেখতে পেলাম। দাবদাহের মধ্যে সবাই এসেছেন। তাঁরা কেউ আমাকে দেখতে আসেননি। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েই এসেছেন আগামী দিন লাইনে দাঁড়িয়ে জোড়াফুলে ভোট দেবেন।’ প্রবল গরম তখন। ঘাম মুছতে মুছতে আরও সুর তুলে অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি এখানে প্রার্থী করেছে রেখা পাত্রকে। তাঁর সম্বন্ধে যত কম বলা যাবে ততই ভালো। সন্দেশখালিতে দেখেছেন টাকার বিনিময়ে বাংলার মহিলাদের অপমান করে গোটা ভারতবর্ষের কাছে বাংলাকে কলুষিত করেছে। সাদা খাতায় সই করিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করানো হয়েছে।’ এরপর হিঙ্গলগঞ্জের প্রার্থী আনন্দ সরকারের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরেন অভিষেক। বলেন, ‘বিজেপি ভোটের পর চলে যাবে। কিন্তু আনন্দবাবু-তৃণমূলের সৈনিকরা থাকবেন। ১৯৯৩ সাল থেকে এলাকায় বুক চিতিয়ে আনন্দদা মানুষের জন্য লড়াই করছেন। ওঁকে জেতান, আপনাদের ভালোবাসা আমি আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়ন দিয়ে ভরিয়ে দেব।’ অন্যদিকে সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথেও একই ছবি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ