


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দশমী মানেই বিসর্জনের বাজনা। সেই চালু কথাটিকে ভুল প্রমাণ করে দশমীর রাতে নতুন করে ভিড়ের বোধন হল চন্দননগরে। দুর্যোগের কারণে অষ্টমী ও নবমীতে ভিড় কম হয়েছে। সে দুঃখ পুষিয়ে দিতেই যেন দশমীর রাতে ফের একবার বাঁধভাঙা ভিড়ের দাপট দেখা গেল চন্দননগর, ভদ্রেশ্বরের পথে প্রান্তরে। একদিকে দুর্যোগের ভ্রুকুটিহীন পরিবেশ অন্যদিকে শনিবার কার্যত ছুটির দিন। ফলে শুক্রবারের সন্ধ্যা থেকে জগদ্ধাত্রী কলোনিতে শোনা গিয়েছে মাত্রাছাড়া জন কোলাহল। শনিবার উৎসবের ফাইনাল ম্যাচ, শোভাযাত্রা। তার আগে শুক্রবারকে ভিড়ের দাপটই সেমি ফাইনাল করে দিয়ে গেল। রাত কাঁপিয়ে ভোর পর্যন্ত সরগরম করে রাখল চন্দননগর-ভদ্রেশ্বরকে।
অভিজ্ঞদের দাবি, দু’টি ঘটনা এদিন ব্যাপক ভিড়ের পরিসর তৈরি করেছিল। প্রথমত, শুক্রবার দশমী হওয়ায় অনেকেই প্রতিমা দর্শন করেছেন বেছে বেছে। তার জেরে কিছু মণ্ডপে ভিড়ের দাপট কম থাকলেও সার্বিকভাবে চন্দননগরের পথেঘাটে তিল ঠাঁই ছিল না। দ্বিতীয়ত, শনিবারের বিশ্বখ্যাত ভাসানের শোভাযাত্রা দেখতে প্রতিবারই চন্দননগরের বাসিন্দাদের বাড়িতে আত্মীয়দের ভিড় জমে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মূলত দশমীর রাতে প্রতিমা দর্শন আর পরদিন শোভাযাত্রা চাক্ষুস করাই লক্ষ্য থাকে। সেই ভিড়ও চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বর পথপ্রান্তর দাপিয়েছে। ভোররাত পর্যন্ত জলস্রোতের মতো ভিড় শহরজুড়ে পাক খেয়েছে। চন্দননগরে ভিড়ের দাপট কেমন ছিল তা বোঝা গিয়েছে, চুঁচুড়া থেকে চন্দননগরে ঢোকার দু’টি পথ বারবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায়। চুঁচুড়া স্টেশন রোড থেকে ময়নাডাঙা হয়ে হলদেডাঙা(চন্দননগর) ঢোকার পথ বিকেল থেকেই সচকিত হয়ে উঠেছিল। অবিরাম জনস্রোত গিয়েছে ওই পথে। আর চুঁচুড়ার খাদিনা মোড় থেকে তালডাঙা দিয়ে চন্দননগরে ঢোকার আলোকময় পথে শুধু কালো মাথার সারি দেখা গিয়েছে। বাঁধন হারা ভিড়ের দাপটে অবশ্য বেজায় খুশি হয়েছেন চন্দননগরের পুজো উদ্যোক্তারা। খলিসানির ‘রঙের উৎসব’কে ঘিরে শুক্রবার বিকেলেই ছিল ঠাসা ভিড়। খলিসানির শোভাযাত্রা নেই। ফলে শুক্রবারই ছিল দর্শকদের সামনে হাজির হওয়ার শেষ দিন। দু’দিনের ম্লান ভিড় শুক্রবার সুদে-আসলে পুষিয়ে গিয়েছে। পুজো উদ্যোক্তা তথা চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির চেয়ারম্যান নিমাইচন্দ্র দাস বলেন, সাধারণত দশমীতে বহিরাগত ভিড়ের দাপট কম থাকে। কারণ মানুষ চন্দননগরে আসার জন্য দশমীর পরদিন অর্থাৎ শোভাযাত্রার দিনটিকেই বেছে নেন। কিন্তু এবার দশমীতে রেকর্ড ভিড় পেয়েছি।
সকালেই ইঙ্গিত মিলেছিল। দুর্যোগের ভ্রুকুটি ছিল না। দুপুরে ছিল রোদের দাপটও। সুর বাঁধা হয়েছিল তখনই। বিকেল গড়াতেই জমজমাট ভিড়ে ঢাকতে শুরু করেছে জিটি রোড। আর সন্ধ্যা নামার পর চন্দননগর-ভদ্রেশ্বরে বিসর্জনের বিষাদ ছাপিয়ে শুধুই জনউল্লাসের শঙ্খনাদ শোনা গিয়েছে।