নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ পয়লা বৈশাখ। এখন কুমোরটুলির রাস্তাজুড়ে অস্থায়ী দোকানের ছড়াছড়ি। বিক্রি হচ্ছে নানা মাপের লক্ষ্মী-গণেশ, থার্মোকলের স্বস্তিকা চিহ্ন, শুভ নববর্ষ লেখা বোর্ড, আরও কত কী। অস্থায়ী দোকানের পাশাপাশি স্থায়ী দোকানগুলিতেও দেদার বিক্রি। বিরাট বড় রঙিন পাখা, লাল রঙের হালখাতা বিক্রি হচ্ছে সেখানে। কিনতে ভিড় বাঙালি-অবাঙালির। দোকানদার থেকে গৃহস্থ, সকলেই এখানে আসছেন সস্তায় কেনাকাটা করতে।
এক দম্পতি শ্যামবাজার থেকে এসেছিলেন। বিশালাকার লক্ষ্মী-গণেশ কিনলেন। বললেন, ‘আমাদের মুদিখানার দোকান। নববর্ষে পুজো হয়। এই একটা দিন বেশ বড় করে পালন করি। তাই এখান থেকেই বেছে বেছে সামগ্রী কিনি।’ অমল চক্রবর্তী নামে কুমোরটুলির এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগের বছরের তুলনায় দাম খুব একটা বাড়েনি। নববর্ষ লেখা ছোট বোর্ডগুলো ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১০ টাকার মতো দাম বেড়েছে।’ ব্যবসা ভালো হচ্ছে বলে জানালেন অন্যান্য বিক্রেতারাও। বারাকপুর থেকে কুমোরটুলিতে এসেছিলেন স্বপন দেব। বললেন, ‘আমার স্টেশনারি দোকান। বড়বাজারে মাল কিনতে এসেছিলাম। এবার কুমোরটুলি ঘুরে থার্মোকলের স্বস্তিকা চিহ্ন, মঙ্গলঘট কিনলাম। এ বছর দোকান খুব ভালো করে সাজাব বলে ঠিক করেছি।’
দোকান শুধু নয়, অনেকে বছরের প্রথম দিনটি নিজের বাড়িও সাজিয়ে থাকেন। তাঁদের জন্য বড় আকারের পাখা রেখেছেন দোকানদাররা। এক বিক্রেতার কথায়, ‘শহরের অনেক বনেদি বাড়িতে এই দিন পুজো হয়। বাড়ি ভালো করে সাজান তাঁরা। সেই কথা মাথায় রেখে এগুলো রাখি। গত বছরের তুলনায় দাম খুব একটা বাড়েনি বলে বিক্রি ভালোই।’ ভবানীপুর থেকে এসেছিলেন দীপাঞ্জন হালদার। বললেন, ‘প্রতি বছরই পয়লা বৈশাখের আগে কুমোরটুলি আসি। এখানে বেশ সস্তায় জিনিসপত্র পাওয়া যায়। পাড়ার দোকানে একটু দাম বেশি হয়। বড় বড় থার্মোকলের স্বস্তিকা, মঙ্গলঘট বাড়িতেও বানাতে পারি। কিন্তু অনেক ঝক্কি। তাই এখান থেকেই কিনে নিয়ে যাই। বাড়িতে ছোটখাটো অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। তখনই ঘর সাজানোর জন্য এসব লাগে। আমি নিজেও বাড়িতে রঙিন কাগজ কেটে পেঁচা, পাখি তৈরি করি। আসলে এসময় এগুলো করতে ভালো লাগে। নতুন বছরের শুরু অন্যভাবে করলে মন্দ লাগে না।’-নিজস্ব চিত্র