


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: রোগা ছিপছিপে চেহারা। রবিবার সন্ধ্যায় ভিড় ঠেলতে ঠেলতে এগিয়েছিলেন অনেকটা দূর। কিন্তু, পরপর কনুইয়ের গুঁতো খেয়ে স্টলে ঢুকতেই পারেননি বউবাজারের অরিন্দম সর্দার! স্টলের বাইরে যেন ‘শ্রীভূমি’তে ঠাকুর দেখার লাইন। জনসুনামির চাপে ফিরে গিয়েছিলেন বাড়ি। ফাঁকায় ঘুরবেন বলে সোমবার দুপুরেই বান্ধবীকে নিয়ে এসেছিলেন বইমেলায়। ব্যাগ ভরতি বইও কেনেন। কিন্তু, বিকেল গড়াতেই সোমবারও জনপ্লাবনের চেহারা নিল বইমেলা। শেষের আগেরদিন বইমেলায় হাজির হলেন দেড় লক্ষের বেশি মানুষ। সব মিলিয়ে ভিড় ছাড়িয়েছে ৩০ লক্ষ!
সন্ধ্যার পর শীতের আমেজ। তবে, হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত। বান্ধবীর হাতে বইয়ের ব্যাগ। অরিন্দমের হাতে গরম ধোঁয়াওঠা ফিশফ্রাই। তিনি বলেন, ‘এবার শুরু থেকেই দেখছি, অস্বাভাবিক ভিড়। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন ভেবেছিলাম ফাঁকা পাব। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখলাম, জনপ্লাবন’! ভিড় বাড়ার কারণ কী? মেট্রো? নাকি বইয়ের প্রতি উৎসাহ বাড়ছে মানুষের? গিল্ডের যুগ্ম সম্পাদক শুভঙ্কর দে বলেন, হাওড়া থেকে সরাসরি মেট্রো সংযোগ হওয়ায় যোগাযোগের সুবিধা বেড়েছে। তাতে কিছুটা ভিড় অবশ্য বেড়েছে। সেই সঙ্গে বইয়ের প্রতিও মানুষের আগ্রহ এখনও অটুট। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ছোটো হোক বা বড়ো, সব প্রকাশনীর বিক্রি ভালো হচ্ছে। যাঁরা আসছেন, তাঁরা সকলেই বই কিনে ফিরছেন।
গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে এবং সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত বছর ২৭ লক্ষ মানুষ বইমেলায় এসেছিলেন। এবার ১ ফেব্রুয়ারিতেই ওই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন পাঠকরা। ওইদিন পর্যন্ত মেলায় হাজির হয়েছিলেন ২৯ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ। সোমবার এসেছেন আরও দেড় লক্ষ মানুষ। অর্থাৎ, ভিড় ৩০ লক্ষ ৮০ হাজার হয়ে গেল। আজ, মঙ্গলবার বইমেলার বিজয়া। স্বাভাবিকভাবেই আজও জনপ্লাবন বইবে। বইয়ে মগ্ন খুদে।-নিজস্ব চিত্র