Bartaman Logo
৩ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুরে দুর্গা ছাতুর দাম কমতেই উপচে পড়ছে ভিড়, খুশি বিক্রেতারা

বাঙালির পুজো মানেই কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়া। মেদিনীপুর শহরের ছাতুর দাম কিছুটা কমতেই কলেজ মাঠ সংলগ্ন রাস্তায় দুর্গাছাতু ও কাড়ান ছাতু কেনার জন্য উপচে পড়ছে ভিড়।

মেদিনীপুরে দুর্গা ছাতুর দাম কমতেই উপচে পড়ছে ভিড়, খুশি বিক্রেতারা
  • ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বাঙালির পুজো মানেই কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়া। মেদিনীপুর শহরের ছাতুর দাম কিছুটা কমতেই কলেজ মাঠ সংলগ্ন রাস্তায় দুর্গাছাতু ও কাড়ান ছাতু কেনার জন্য উপচে পড়ছে ভিড়। বিক্রি বাড়ায় হাসি ফুটছে ঝাড়গ্রাম-সহ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা ছাতু বিক্রেতাদের মুখে। চলতি বছরের শুরুর দিকে, ছাতুর দাম আকাশছোঁয়া ছিল। কিন্তু এখন ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তিতে। ভালো মানের ছাতু প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পুজোর মুখে একজন বিক্রেতা প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ কেজি ছাতু বিক্রি করছেন। তাঁদের কথায়, এবছর দুর্গা ছাতুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিক্রি ভালো হওয়ায় তাঁরা পুজোয় নতুন জামাকাপড় কেনার স্বপ্ন দেখছেন। 

Advertisement

বিক্রেতাদের মুখে জানা গিয়েছে, জঙ্গলজুড়ে হাতির উপদ্রবে এবছর বহু মানুষ ছাতু সংগ্রহ করতে পারেননি। ফলে চাহিদার তুলনায় জোগান কম। তাই শুরুর দিকে ছাতুর দাম প্রায় হাজার টাকা ছুঁয়েছিল। এদিন মেদিনীপুরের শালবনী থেকে ছাতু বিক্রি করতে এসেছিলেন ঝন্টু আহির। তিনি বলেন, পুজোর সময় ভালো বিক্রি হবে বলে আশা করেই এসেছি। বিক্রি হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ছাতু কিনতে আসছেন। পুজোর সময় বাড়তি রোজগার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। অন্যদিকে, ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় ব্লকের ভিমপুরের বাসিন্দা প্রশান্ত মাহাত বলেন, হাতির ভয়কে উপেক্ষা করে জঙ্গল থেকে ছাতু আনীত হয়। ছাতুর চাহিদা বেশ ভালোই রয়েছে। 
প্রসঙ্গত, বর্তমানে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরা ছাতুর বিক্রি দিন দিন বাড়ছে। সারা বছরই বাজারে এই ছাতু পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বর্ষার শেষে জঙ্গলমহলের বাজারে কাড়ান, দুর্গাছাতু নিয়ে কার্যত কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। বর্ষার শেষলগ্নে, মা দুর্গার আগমনের মুখে বনজঙ্গলে এই মাশরুমের জন্ম হচ্ছে। সেই কারণেই একে দুর্গা ছাতু বা পরব ছাতু বলা হয়। প্রতিবছর পুজোর আগে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও মূলবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ এই ছাতু সংগ্রহ করে বাড়তি রোজগার করেন। সাধারণত জঙ্গল সংলগ্ন বাসিন্দারা ভোরের আলো ফোটার আগেই ছাতু সংগ্রহ করতে জঙ্গলে পাড়ি দেন। 
জঙ্গলে ছাতু সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁদের বিপদের মুখেও পড়তে হয়। বিষাক্ত সাপ পোকামাকড়ের ভয় রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে হাতির আতঙ্ক। এক ঘণ্টায় একজন দেড় থেকে দু’কেজি ছাতু সংগ্রহ করেতে পারেন।
শুক্রবার ছাতু কিনতে এসেছিলেন সঞ্জয় দাস। তিনি বলেন, এই সময় চলে গেলে ছাতু আর পাওয়া যায় না। পুজোর সময় একদিন ছাতু খেতেই হবে। শহরের এক হোটেল মালিক ঝন্টু পাল বলেন, মেদিনীপুরের বিভিন্ন হোটেলে ছাতু দিয়ে নানা পদ রান্না করা হচ্ছে। সুস্বাদু এই খাবার খেতে অনেকেই ভিড় করছেন। মাছ ও মাংসের পাশাপাশি ছাতুর পদের বিক্রিও ভালো হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ