Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকার আশায় ডিবিটি লিংক করাতে ব্যাংকে ভিড়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ

আগামী ১ জুন থেকেই মিলবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের টাকা। কিন্তু সেই টাকা উপভোক্তারা সরাসরি ডিবিটি লিঙ্কের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাকাউন্টে পাবেন।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকার আশায় ডিবিটি লিংক করাতে ব্যাংকে ভিড়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ
  • ২১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: আগামী ১ জুন থেকেই মিলবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের টাকা। কিন্তু সেই টাকা উপভোক্তারা সরাসরি ডিবিটি লিঙ্কের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাকাউন্টে পাবেন। কিন্তু আদতে দেখা যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ অ্যাকাউন্টে ডিবিটি লিংক করা নেই। তাই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার টাকা পাওয়ার আশায়,  কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন ব্যাংক শাখায় ডিবিটি লিংক করানোর জন্য প্রতিদিনই উপচে পড়ছে সাধারণ মানুষের ভিড়।  প্রতিদিন সকাল ৮ টা  থেকেই একাধিক ব্যাংকে লাইন দিচ্ছেন গ্রাহকরা। ফলে ব্যাংক খুললেই গ্রাহকদের ভিড়  এবং ব্যাংক কর্মীদের অস্বাভাবিক চাপ দেখা যাচ্ছে।কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ। 

Advertisement

লাইনে দাঁড়ানো বেশিরভাগ সাধারণ মানুষদের অভিযোগ,  আমাদের এই দৌড়ে বেড়ানো কোনো সময়ই শেষ হবে না। সরকার একের পর এক নির্দেশিকা দেয়, আর আমাদের শুধু লাইনে দাঁড়াতে হয়। লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা তো এমনিতেই পেয়ে যেতাম, এখন অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পেতে শুনছি শুধু আঁধার লিংক থাকলে নাকি হবে না, ডিবিটি করতে হবে। তাই সবাই ব্যাংকে এসেছি ডিবিটি লিংক করাতে। বেশিরভাগ জনকেই অন্তত দুবার করে আসতে হচ্ছে, একদিনে কাজ হচ্ছে না। এই টাকাটা আমাদের পরিবারের অনেক কাজে লাগে, তাই গরমে যত কষ্টই  হোক, এটা করতে হবে। কাউন্টার কম হওয়ার সমস্যা আরও বেশি হচ্ছে। 
সবিতা বিশ্বাস নামে এক মহিলা গ্রাহক বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছিলাম, কোনো অসুবিধা তো হয়নি। সব কিছুই তো ঠিকঠাক চলছিল। আবার নতুন করে এসব করার কী দরকার ছিল বুঝতে পারছি না। সরকার ভেরিফাই করে যারা যোগ্য তাকে দিয়ে দিত, ডিবিটি করানোর চক্করে অসুস্থ হয়ে পড়ছি তো। একটামাত্র কাউন্টারেই এই কাজ হচ্ছে, আরও কয়েকটি কাউন্টারে নিলে একটু তাড়াতাড়ি হতো।
৫২ বছরের এক প্রবীণ গ্রাহক দীপালি বিশ্বাস বলেন, আমার বয়স হয়েছে, এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টের। কিন্তু টাকা পাওয়ার আশায় বাধ্য হয়ে আসতে হচ্ছে। ভিড় এত বেশি যে কখন কাজ হবে সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। দোকানে অনলাইনে করতে গেলাম, সেখান থেকে বলল আপনারটা অনলাইন করা যাবে না, আপনাকে ব্যাংকেই যেতে হবে। তাই কষ্ট করেই আসতে হয়েছে। ওই টাকা আমার পরিবারের অনেক কাজে লাগে। অঙ্কিতা মন্ডল নামে এক গ্রাহক বলেন, কয়েকদিন আগে ব্যাংকে এসে সব কাগজপত্র জমা দিয়ে ডিবিটি করতে গিয়েছিলাম। তখন বলা হয়েছিল  দু এক দিনের মধ্যেই হয়ে যাবে। কিন্তু এক সপ্তাহ হতে চলল, এখনও চেক করলে দেখাচ্ছে লিংক হয়নি। আবার আজ এসেছি খোঁজ নিতে। এই গরমে এত আসা যাওয়া করা যায় নাকি। অসুস্থ হয়ে যাওয়ার জোগাড়।
শুধুমাত্র অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প নয়, অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ডিবিটি লিংকের প্রয়োজন হওয়ায় মানুষ আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সময়মতো লিংক না হলে প্রকল্পের টাকা আটকে যেতে পারে। সেই কারণেই সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ব্যাংকে ছুটছেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ