নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুপুর ১টা থেকে এসএসকেএম হাসপাতালের সামনের রাস্তা দিয়ে মোহরকুঞ্জের দিকে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাসবিহারীগামী গাড়ির যাতায়াত শুরু হয় তখন থেকে। এই অবস্থায় হাসপাতালে আসা রোগীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা, এসএসকেএম ও রবীন্দ্র সদনের সামনের রাস্তা পারাপার করতে হয় প্রাণ হাতে নিয়ে। সেখানে জেব্রা ক্রসিং আছে ঠিকই। কিন্তু গাড়ি কখন কোন দিক দিয়ে আসছে, তা বোঝা দায়! গ্রামবাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী ও তাঁদের বাড়ির লোকজন হাত দেখিয়ে গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পারাপার করতে বেজায় সমস্যায় পড়েন। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। সমস্যায় পড়তে হয় গাড়ির চালকদেরও।
ট্রাফিক পুলিশ ওই ক্রসিংয়ে মোতায়েন থাকে। কিন্তু সবসময় নয়। মুর্শিদাবাদ থেকে আসা এক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘গত ৬ মাস নিয়মিত আসছি পিজিতে। হাসপাতালের ফুট থেকে এক্সাইডের ফুটে যেতে গেলে খুবই অসুবিধায় পড়তে হয়। সাঁতরাগাছিগামী বাসগুলো যাত্রী তোলার জন্য ওই মোড়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। তাই ভিক্টোরিয়ার দিক থেকে কখন গাড়িগুলো এই রাস্তায় ঢুকছে, বোঝা যায় না। কিছুটা এগিয়ে গেলে আচমকা দেখা যায়, উলটো দিক থেকে গাড়ি আসছে তীব্র বেগে। তখন প্রাণ সংশয় হয়ে যায়!’ বেহালার বাসিন্দা এক ব্যক্তির অভিযোগ, ‘সামনের সিগন্যালগুলো মনে হয় খারাপ। তাই ওই সিগন্যালে কখনও হাঁটার জন্য সবুজ আলো দেখি না।’
প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ এসএসকেএম হাসপাতালে আসেন। তাঁদের সিংহভাগই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। স্বভাবতই তাঁরা কলকাতা শহরের রাস্তাঘাটের সঙ্গে খুব একটা সড়গড় নন। হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসা বেশিরভাগ লোকের কাছেই ট্যাক্সি বা অ্যাপ ক্যাবে যাতায়াতও সম্ভব নয়। তাই পায়ে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে গিয়েই বাস ধরে হাওড়া কিংবা শিয়ালদহ স্টেশনে যেতে হয় তাঁদের। সেক্ষেত্রে রাস্তা পার করা ছাড়া আর কোনো উপায়ও তাঁদের নেই। এক হাতে রোগীকে সামলে আর এক হাতে গতিতে আসতে থাকা গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পারাপার যে কতটা কঠিন, তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। তাই রোগীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, এর সুরাহা হওয়া দরকার। এই ক্রসিংয়ে সিগন্যাল বসানো হোক। পায়ে হেঁটে রাস্তা পারাপারের জন্য সিগন্যালে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হোক। তবেই এই সমস্যার সমাধান হবে। এখানে সর্বক্ষণ ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।-নিজস্ব চিত্র