সংবাদদাতা, বারুইপুর: কুলতলি ও রায়দিঘি সংযোগকারী মণি নদীর উপর বাঁশ-কাঠের সাঁকো এখন ভাঙা অবস্থায়। মাঝে বাঁশের পাটাতনের একটা অংশ ভেঙে ঝুলছে জলে। তাতে বিরাট ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে। এর উপর দিয়েই চলছে বিপজ্জনক যাতায়াত। তাতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এই চিত্র কুলতলি বিধানসভার মণিরতট এলাকার। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি থেকে বিধায়কের কাছেও বারংবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। অবিলম্বে এই জায়গায় কংক্রিটের সেতুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা। এবিষয়ে কুলতলির বিধায়ক গণেশ মণ্ডল বলেন, এই ব্যাপারে সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। খব তাড়াতাড়ি কংক্রিটের সেতু তৈরি করা হবে।
রায়দিঘি বিধানসভার নালুয়া ও কুলতলি বিধানসভার মণিরতট মধ্যে সংযোগ ঘটিয়েছে এই কাঠ-বাঁশের তৈরি সাঁকো। দু’টি পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার মানুষকে এই সাঁকো ধরেই নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা দেবপ্রসাদ পাল বলেন, ছয়-আট মাস ধরে প্রচুর সমস্যা হচ্ছে এটি ভাঙা অবস্থায় থাকায়। পাটাতন ভেঙে জলে পড়ে বিপজ্জনক ফাঁক হয়ে গিয়েছে। কোনওরকমে মানুষকে ওই জায়গা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় পানীয় জল আনতেও অনেক দূরে যেতে হচ্ছে। এই সাঁকো ধরে ২ কিলোমিটার গেলে বাজার। সেই বাজার যেতে ৬ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। হাসপাতালে যেতে ১৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
এলাকার আরেক বাসিন্দা এবাত আলি মোল্লা বলেন, বাইক, টোটো কিছু যেতে পারে না এই সাঁকো দিয়ে। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে গিয়েও প্রায়ই পড়ে যায়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই ব্যাপারটি দেখা। আর স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য শওকত আলি গাজি বলেন, এই সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের সব জায়গায় জানিয়েছি। কিন্তু কাজ হয়নি। দিদিকে বলোতেও অভিযোগ জানিয়েছিলাম। দু’টি বিধানসভা থেকেই এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। -নিজস্ব চিত্র