নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবনে কুমিরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ২০২৪-’২৫ সালে আনুমানিক ২৪২টির মতো কুমির আছে ভারতের সুন্দরবনের। আগে তার আনুমানিক সংখ্যা ছিল ২০৪ থেকে ২৩৪। একে এস্টিমেটেড সংখ্যা বলা হয়। কারণ যে সময় সমীক্ষা চালানো হয়েছে, তার আগে ও পরে অনেক কুমির দেখা দিতে পারে। যা গণনায় ধরা পড়েনি। তাই সঠিক সংখ্যা বলা যায় না। ডাইরেক্ট এবং ইনডাইরেক্ট সাইটিংয়ের ভিত্তিতে হিসেব কষে সেটা বের করা হয়েছে। সোমবার সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের অফিসে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, গতবছর ডিসেম্বর এবং এই বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের তিনদিন সমীক্ষা চালিয়ে কুমিরের তথ্য সংগ্রহ হয়েছিল।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, সমীক্ষার সময় নদী ও খাঁড়ি মিলিয়ে ১ হাজার ১৬৮ কিলোমিটারজুড়ে কুমিরের খোঁজ করা হয়। খালি চোখে, ট্র্যাপ ক্যামেরার ছবিতে এবং কাদা মাটিতে কুমিরের শরীরের ছাপ দেখে নির্ণয় করা হয় আনুমানিক সংখ্যা। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগ মিলিয়ে ন’টি রেঞ্জে বনকর্মী এবং বন আধিকারিকরা সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। খালি চোখে সব থেকে বেশি কুমির দেখা গিয়েছে রায়দিঘি রেঞ্জে। এছাড়াও সজনেখালি এবং ন্যাশনাল পার্ক ওয়েস্ট এলাকাতেও ভালো সংখ্যক কুমিরের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা গিয়েছে।
সমীক্ষা রিপোর্টে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাও করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সমীক্ষা চলাকালীন দেখা গিয়েছে, কুমির মূলত এমন জায়গায় বাসা করছে যা সবসময় জলে ডুবে যায় না। ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়ার পর চার থেকে ছ’মাস পর্যন্ত তাদের খেয়াল রাখে মা কুমির। তারপর কুমিরছানাগুলি নিজেরাই জলে চলে যায়। বন আধিকারিকদের আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হল, প্রাথমিকভাবে দেখা গিয়েছে জলের নোনাভাব বৃদ্ধি পেলে কুমিরের বাসস্থানে প্রভাব পড়ে। তবে এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে তাঁরা জানান। কুমির শুমারির প্রক্রিয়া আরও অন্তত দু’বছর করার প্রয়োজন বলে মনে করছেন টাইগার রিজার্ভের কর্তারা। তাহলে এদের সংখ্যার একটা ট্রেন্ড বোঝা যাবে।