Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সংকটজনক বৃদ্ধকে ইমার্জেন্সির বাইরে শৌচাগারে পাঠাল আর জি কর, মৃত্যু! লিফট কাণ্ডের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে আরেক মর্মান্তিক ঘটনা

কালিন্দীর অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ৭২ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সোমবার ভোরে ট্রমা সেন্টারের শ্বাসকষ্টের এক রোগীর মৃত্যুতে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠল।

সংকটজনক বৃদ্ধকে ইমার্জেন্সির বাইরে  শৌচাগারে পাঠাল আর জি কর, মৃত্যু! লিফট কাণ্ডের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে আরেক মর্মান্তিক ঘটনা
  • ২৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালিন্দীর অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ৭২ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সোমবার ভোরে ট্রমা সেন্টারের শ্বাসকষ্টের এক রোগীর মৃত্যুতে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠল। এবারও ঘটনাস্থল সেই আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। অরূপবাবুর মৃত্যুতে যেমন হাসপাতালের লিফটগুলির বেহাল দশা বেআব্রু হয়ে পড়েছিল, বিশ্বজিৎবাবুর মৃত্যু ধরা পড়ল এখানকার চূড়ান্ত পরিকাঠামোগত খামতি। 

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রের খবর, রোগীর নাম বিশ্বজিৎ সামন্ত ওরফে মন্টু (৬১)। বাড়ি নিমতার বিশরপাড়ায়। তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং মুখ দিয়ে রক্ত পড়ায় রবিবার রাত ২টো নাগাদ পেশায় গাড়িচালক বিশ্বজিৎবাবুকে আর জি করের ট্রমা কেয়ারে আনা হয়। সেখানেই চলছিল অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা। তাঁর স্ত্রী ইলা সামন্ত এবং ছেলে বিশাল সামন্তের অভিযোগ, ভোরের দিকে শৌচাগার যাওয়ার দরকার পড়ে। কারণ তাঁকে বেড প্যান দেওয়া হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে ইমার্জেন্সি থেকে বেরিয়ে মেন গেটের সামনের পে অ্যান্ড ইউজ টয়লেটে যেতে বলেন। আশঙ্কাজনক রোগীকে তাঁরা সেখানে নিয়ে যান ভোর ৪টে ৫৫ নাগাদ। দোতলায় শৌচাগারে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই তাঁর অবস্থা আরো খারাপ হয়। সেখানেই ঢলে পড়েন বিশ্বজিৎবাবু। বাড়ির লোকজন এবং উপস্থিত অন্যরা তাঁকে ফের ইমার্জেন্সিতে আনেন। সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। সকাল সাড়ে ৫টায় মারা যান তিনি। অভিযোগ, এরপর হাসপাতাল থেকে বলা হয়, ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না। যেমন রোগীকে এনেছেন, তেমনই নিয়ে চলে যান। বাইরের কোনো ডাক্তারকে দিয়ে সার্টিফিকেট ইস্যু করিয়ে নেবেন! আর হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট পেতে হলে ময়নাতদন্ত করাতে হবে। এনিয়ে একপ্রস্থ বাকবিতণ্ডা হয়। শেষপর্যন্ত ময়নাতদন্তেই রাজি হন বাড়ির লোকজন। 
প্রসঙ্গত, ট্রমা সেন্টারের একতলায় দুটি শৌচাগার। একটি সবসময় তালা বন্ধ থাকে। অন্যটি স্টাফ টয়লেট। অসম্ভব নোংরা। রোগীর বাড়ির মহিলারা এবং পুরুষরা ভাগাভাগি করেই সেখানে যেতে বাধ্য হতেন। ফোন না ধরায় এমএসভিপি ডাঃ সপ্তর্ষি  চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। স্থানীয় বিধায়ক অতীন ঘোষ এদিন হাসপাতালের বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে সরব হন।
অন্যদিকে লিফট কাণ্ডে অরূপের মৃত্যুর ঘটনার রিপোর্ট এদিন আর জি করে জমা পড়ে। ডাঃ চট্টোপাধ্যায় সেটি নিয়ে স্বাস্থ্যভবনে যান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ