নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সঙ্কট বাড়ছে উত্তরের চা শিল্পে। নিলামে সিটিসি চায়ের দামে আবারও ধস! এবার নিলামে কেজি প্রতি এস্টেট গার্ডেনের চায়ের দাম গড়ে কমে গেল ৫০ টাকা। শুধু তাই নয়, মজুত চায়ের মাত্র ৬৫ শতাংশ নিলাম হয়েছে। যা চা শিল্পের জন্য মোটেই সুখকর পরিস্থিতি নয় বলে জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডুয়ার্স শাখার সচিব রাম অবতার শর্মা।
তিনি বলেন, ২ জুলাই শিলিগুড়ি টি অকশন সেন্টারে এস্টেট গার্ডেনের সিটিসি চায়ের যে নিলাম হয়েছে, তাতে আগের বারের তুলনায় গড় দাম কেজিতে ৪৯ টাকা ৯১ পয়সা। তাছাড়া গতবছর ২৭ নম্বর সেলে যেখানে মজুত চায়ের ৮৩ শতাংশ নিলাম হয়েছিল, সেখানে একই সেল নম্বরে এবার মাত্র ৬৫ শতাংশ চা অকশন হয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায়, চায়ের চাহিদা কতটা কমেছে।
উত্তরের চায়ের ‘মন্দা’ বাজারে ১১ বছর পর পথচলা শুরু করেছে জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্র। বাজারে সিটিসি চায়ের চাহিদা না থাকায় ইতিমধ্যেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তিস্তাপাড়ের শহরের ওই টি অকশন সেন্টারে। প্রথম নিলামের জন্য যেখানে ১ লক্ষ ৫ হাজার কেজি চা এসেছিল, দ্বিতীয় নিলামের আগে তা কমে গিয়েছে। মাত্র ৬৯ হাজার কেজি চা এসেছে। তাও সব চা বিক্রি হবে কি না তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে। কারণ, প্রথম নিলামে জলপাইগুড়ি টি অকশন সেন্টার থেকে মাত্র ৪৫ হাজার কেজি চা বিক্রি হয়েছে। পড়ে থেকেছে ৫৫ হাজার কেজি চা। গত ২ জুলাই শিলিগুড়ি টি অকশন সেন্টারে উত্তরবঙ্গের যে সিটিসি চা নিলাম হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ২৮০ টাকা বা তার বেশি দামের চা, যা মূলত ভালো মানের হিসেবে বিবেচিত হয়, মজুত পরিমাণের নিরিখে তা নিলাম হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ। গতবছর এসময়ে ওই চা নিলাম হয়েছিল ৩৪ শতাংশ। তাছাড়া গতবছর ২৭ নম্বর সেলের অকশনে যেখানে সিটিসি’র গড় দাম মিলেছিল ২২৯ টাকা, এবার ১৭৪ টাকা।
ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করেন ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখ্য উপদেষ্টা অমৃতাংশু চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, বৃষ্টি নেই। চা বাগানে রোগপোকার আক্রমণ মারাত্মক হারে বেড়ে গিয়েছে। অনুমোদিত কীটনাশক দিয়ে তা দমন করা যাচ্ছে না। ফলে পাতার উৎপাদন কমছে। এরই মধ্যে বাজারে চাহিদা না থাকায় নিলামে চায়ের দামে কার্যত ধস নেমেছে। এই অবস্থায় কীভাবে বাগানগুলি চালু রাখা যাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।