


সংবাদদাতা, কান্দি: ছ’ দিন পেরিয়ে গেলেও কান্দি মহকুমার বন্যা পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দ্বারকা নদের বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও রাতেই ফাটল মেরামতির কাজ শুরু করে সেচদপ্তর। যার ফলে বড় ধরনের বন্যার হাত থেকে রেহাই পেল কান্দি শহর সহ সংলগ্ন এলাকা। প্রসঙ্গত, রবিবার বিকেল থেকেই কান্দি মহকুমার ভরতপুর ১ ব্লক ও খড়গ্রামের দু’টি পঞ্চায়েত জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ক্রমে আরও এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। প্লাবিত হয় মহকুমার খড়গ্রাম, ভরতপুর ১ ও ২, বড়ঞা ও কান্দি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। বন্যার ছ’ দিন পরেও কুয়ে, ময়ূরাক্ষী, কানা ময়ূরাক্ষী, দ্বারকা, ব্রাহ্মণী, এড়ে, বাবলা নদীগুলির জলস্তর কমেনি। বরং অতিবর্ষণে কান্দি ব্লকের আন্দুলিয়া পঞ্চায়েতের কয়েকটি গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কান্দি পুরসভার ৮, ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিচু এলাকাগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ওই ওয়ার্ডগুলির কয়েকটি রাস্তার উপর এক হাঁটুর বেশি জল জমে রয়েছে। কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান জয়দেব ঘটক বলেন, জলমগ্ন ওয়ার্ডগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার, ওষুধ ও পানীয় জল সরবরাহ করা হয়েছে। পুরসভায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। যেখানে দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা ফোন করে সাহায্য নিতে পারেন। এদিকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কান্দি ব্লকের সালেপুর ও বেণিপুর গ্রামের মাঝে দ্বারকা নদের বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। সেই ফাটল ক্রমশ বড় হতেই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। ফাটলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার, কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্থপ্রতিম সরকার, জেলা সেচদপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার প্যারিস নন্দী প্রমুখ। সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে গভীর রাতেই বাঁধ মেরামতি শুরু হয়। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ওই বাঁধ মেরামতির কাজ চলছিল। অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জানান, বাঁধ মেরামতি শুরু হয়েছে। আপাতত চিন্তামুক্ত। কান্দির বিধায়ক বলেন, সময়মতো খবর পেয়ে যদি বাঁধের ফাটল মেরামত না করা যেত তাহলে কান্দি-বহরমপুর রাজ্য সড়কের উপর একবুক জল জমে যেত। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত রাজ্য সড়ক। কান্দি শহরেও বন্যার জল ঢুকত। দ্রুত পদক্ষেপের জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ।
এদিকে বহরমপুর ব্লকের সাটুই ও চৌরিগাছা এলাকার বন্যা পরিস্থিতি একই রয়ে গিয়েছে। বাবলা নদীর বাঁধ ভেঙে ওই এলাকা প্লাবিত হয়। বহরমপুর-রামনগরঘাট রাজ্য সড়কের ওই এলাকার রাস্তার উপর এখনও জল জমে রয়েছে।