


সংবাদদাতা, বোলপুর: দীর্ঘদিন ধরে কর্মী সংকটে ভুগছে বিশ্ব বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও ল-অফিসার ছাড়া স্থায়ী কোনো আধিকারিক, শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মী নেই। এর মাঝেই রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। নতুন সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা সেই কর্মীরা পুর্নর্নিয়োগ পেয়েছিলেন, সেই চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১২জন কর্মী বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের মধ্যে চলতি মাসে চার-পাঁচজনের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। অন্যদিকে, কলেজের ক্ষেত্রে এই নিয়ম লাগু করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এখনো কার্যকর হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম লাগু হলে প্রশাসনিক কাজকর্ম সামলানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এমন অবস্থায় স্থায়ী কর্মী নিয়োগ জরুরি বলেই মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, সাহিত্য, কলা প্রভৃতিকে জাতীয় তথা আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দেওয়ার প্রসারের উদ্দেশ্যে বিগত সরকারের আমলে বিশ্ব বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোলপুর সংলগ্ন শিবপুরে বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের ঘোষণা করেন। ২০২০ সালে রাজ্য বিধানসভায় আইন পাশ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিভাগে পঠনপাঠন চালু হয়। বর্তমানে ১৯টি বিভাগে প্রায় এক হাজার ছাত্রছাত্রী এখানে বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক আবু তালেব খান দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে রাজ্য সরকারের কাছে কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠান বলে জানা গিয়েছে। শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী ও আধিকারিক, সমস্ত ক্ষেত্রেই স্থায়ী নিয়োগের আবেদন জানানো হয়। শিক্ষাদপ্তর সেই প্রস্তাব অর্থদপ্তরে পাঠালেও পরে নির্বাচনি আচরণবিধি শুরু হওয়ায় বিষয়টি আর এগোয়নি বলে সূত্রের দাবি।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। সেই দিক থেকে বিষয়ভিত্তিক স্থায়ী অধ্যাপক নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের জন্য আধিকারিক ও নন-টিচিং স্টাফও প্রয়োজন। নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলেই আশা করছি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিভিন্ন বিভাগে ৫৫জন গেস্ট ফ্যাকাল্টি পড়াচ্ছেন। এছাড়াও বিভিন্ন কলেজের কয়েক জন অধ্যাপক ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে এসে ক্লাস নেন। যেসব বিভাগে স্থায়ী অধ্যাপকের অভাব রয়েছে, সেখানে তাঁরাই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের ক্লাস পিছু সাম্মানিক দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মহলের একাংশের মতে, স্থায়ী শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো দু’দিকেই সমস্যা বাড়তে পারে। তাই নতুন সরকারের কাছে এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রত্যাশা, দ্রুত স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে দীর্ঘদিনের কর্মী-সংকট কাটানো হোক।