


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ অফিস থেকে ফাইল ভরতি গাড়ি আটকাল বিজেপি। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তমলুকের নিমতৌড়িতে জেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি ডব্লুবিএসআরডিএ-র গাড়িতে প্রচুর ফাইল তোলা হচ্ছিল। সেই গাড়ি কাঁথির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় আটকান জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব গুছাইত সহ বিজেপির অন্য নির্বাচিত সদস্যরা। এনিয়ে সাময়িক হইচই বাধে। তারপর গাড়ি থেকে দু’জন কর্মী ফাইল নিয়ে ফের জেলা পরিষদ অফিসে নিয়ে যান। ডব্লুবিএসআরডিএ-র ফাইল তমলুক থেকে কেন কাঁথিতে নিয়ে যাওয়া হবে, তা নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়। এরমধ্যেই বুধবার গোটা জেলা পরিষদ ভবন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাটআউটে ছয়লাপ করে দেওয়া হয়। শুভেন্দুবাবু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আনন্দে বিজেপির তরফে জেলা পরিষদের অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীদের মিষ্টি খাওয়ানো কর্মসূচি রাখা হয়েছিল। প্রত্যেকের হাতে পদ্মফুল তুলে দেওয়া হয়।
পূর্ব মেদিনীপুরে ডব্লুবিএসআরডিএ-র তমলুক ও কাঁথি ডিভিশন রয়েছে। তমলুক ডিভিশনের অফিস জেলা পরিষদ ভবনে রয়েছে। কাঁথি ডিভিশনের অফিস কাঁথিতে জেলা পরিষদের একটি কমপ্লেক্সে রয়েছে। কাঁথির অফিসে অ্যাকাউন্টস বিভাগ দেখভাল হয় না। সেখানে এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্বে আছেন একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। মার্চ মাসে ডব্লুবিএসআরডি-র বিভিন্ন কাজের পেমেন্টের জন্য ফাইলপত্র তমলুকে আনা হয়েছিল। ভোট পর্ব মিটে যাওয়ার পর সেইসব ফাইল এদিন গাড়িতে তুলে তমলুক থেকে কাঁথি নিয়ে যাওয়ার মুখে হইচই শুরু হয়।
গত ৪মে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই জেলা পরিষদে একপ্রকার অচলাবস্থা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক সহ অন্য কর্মাধ্যক্ষরা আসছেন না। জেলা পরিষদে তৃণমূলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটা বড় অংশ বিজেপিতে যোগ দিতে ইচ্ছুক। তাঁরা গেরুয়া শিবিরে যোগাযোগও শুরু করেছেন। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্যদের একাংশ ঘরছাড়া। তাই তৃণমূল বেশ ছন্নছাড়া অবস্থায় রয়েছে। এরকম অবস্থায় জেলা পরিষদে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুবাবুর ছবিকে হাতিয়ার করেই তাঁরা বুধবার জেলা পরিষদে আসেন। বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বামদেব গুছাইত সহ দলের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে ভবনের সামনে শুভেন্দুবাবুর বিরাট ব্যানার ঝোলানো হয়। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী কাটআউট ঝোলানো হয়েছে। রাজ্যে বিজেপির শাসনকালে তৃণমূলের পক্ষে জেলা পরিষদ বোর্ড চালানো যে কঠিন এদিন সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
বিরোধী দলনেতা বামদেব গুছাইত বলেন, গত কয়েকদিন ধরে জেলা পরিষদ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল লোপাট হচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর ছিল। বুধবার আমরা সেটা চাক্ষুষ করলাম। ডব্লুবিএসআরডিএ-র প্রচুর ফাইল কাঁথি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই ফাইল আটকেছি। বিষয়টি জেলাশাসকের নজরে আনা হবে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক এবার চণ্ডীপুর বিধানসভা থেকে হেরেছেন। তারপর নৈতিক জায়গা থেকে ইস্তফা না দিয়ে তিনি অফিসের বাইরে থেকে ফাইল সরাচ্ছেন। সব ফাইল আমরা আটকানোর উদ্যোগ নিয়েছি।
এনিয়ে ডব্লুবিএসআরডিএ-র তমলুক ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার চন্দন সরকার বলেন, কাঁথি ডিভিশনে আমাদের অ্যাকাউন্টস বিভাগ নেই। সেই কাজ তমলুক ডিভিশনে হয়। মার্চের পেমেন্ট করার জন্য ফাইলপত্র তমলুকে আনা হয়েছিল। ভোটের পর সেইসব ফাইল নিয়ে কাঁথির অফিসে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িতে তোলা হয়েছিল। আমি বামদেববাবুকে গোটা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেছি।