Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিপিএমের ‘আইন’ ফিরছে নব্য বিজেপির নেতাদের হাত ধরে! চলছে জরিমানা ও বন্ধ করা হচ্ছে চাষ

বর্ধমানে সিপিএমের ‘আইন’ ফিরছে, নব্য বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। কৃষকদের উপর অত্যাচার বেড়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

সিপিএমের ‘আইন’ ফিরছে নব্য বিজেপির নেতাদের হাত ধরে! চলছে জরিমানা ও বন্ধ করা হচ্ছে চাষ
  • ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সিপিএমের ‘আইন’ ফিরছে এক শ্রেণির নব্য বিজেপি নেতা এবং কর্মীদের হাত ধরে। পারিবারিক বিষয় থেকে সম্পত্তিজনিত সমস্যা, সব বিষয়েই তারা হস্তক্ষেপ করত। সিপিএম নেতাদের বিরুদ্ধে বিরোধীদের পুকুর থেকে মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ হামেশায় উঠত। বামেদের সমালোচনা করলেই চাষ বন্ধ করা দেওয়ার রেওয়াজ সে যুগে ছিল। সেসব এখন ফিরে আসছে। তৃণমূলের দাবি, তাদের রায়না-২ ব্লকের এক নেতার পুকুরে কয়েক দিন আগেই মাছ ধরেছে নব্য বিজেপিরা। তাঁর চাষও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্ধমান-১ ব্লকে একের পর এক নেতাকে জরিমানা করা হয়েছে। যাঁরা ঘরছাড়া রয়েছেন, তাঁদেরকেও জরিমানা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। রায়নার এক তৃণমূল নেতা বলেন, সিপিএমের লোকজনরাই রাতারাতি বিজেপি হয়েছে। তারা পুরনো অভ্যাস ভুলতে পারছে না। কোনো নেতা অপরাধ করলে তার বিচার আদালত করবে। কিন্তু নব্য বিজেপিরা তা মানতে নারাজ। তাঁরা নিজেরাই বিচার করছে।

Advertisement

জামালপুরের এক নেতা বলেন, নিজের বাড়ির শৌচালয় সংস্কার করছিলাম। হঠাৎ ক঩রেই এক বিজেপি নেতা বাধা দেয়। কথা না শোনায় বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, নব্যদের এই আচরণে ক্ষোভে ফুঁসছেন আদি বিজেপি নেতারা। তাঁরা বলছেন, সাধারণ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। যাঁরা অত্যাচার করছে, ভোটে জেতাতে তাঁদের কোনো ভূমিকা ছিল না। নিজেরাই নিজেদের নেতা বলে দাবি করছে। বিজেপির প্রবীণ নেতা নরেশ কোনার বলেন, এসব শুনতেও লজ্জা লাগছে। এতদিন ধরে দল করছি, কেউ আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে পারেনি। হঠাৎ করেই বিজেপি হয়ে যাওয়া কেউ কেউ তোলাবাজি, জুলুমবাজি করে চলছে। 
বিজেপি নেতা তথা গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, যাঁরা অন্যায় করছে, তাঁদের দায়িত্ব দল নেবে না। অভিযোগ পেলেই পুলিশ পদক্ষেপ নেবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তোলাবাজি, জুলুমবাজি তৃণমূল নেতারা করত। মানুষ তাঁদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। অন্য দল থেকে এসে যারা মানুষের উপর অত্যাচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, সাধারণ মানুষই ওদেরকে জবাব দেবে। গবিব মানুষের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তৃণমূল করাটা অপরাধ নয়। অকারণে দলের নেতা, কর্মীদের মিথ্যা কেসে ফাঁসানো হচ্ছে। এটা সুস্থ গণতন্ত্রের নমুনা নয়। সিপিএম নেতা হারাধন ঘোষ বলেন, যারা অত্যাচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বামেদের নামে দোষারোপ করে লাভ নেই। 
বিজেপি নেতৃত্বর অনেকেই বলছেন, ওই সমস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে খেসারত দিতে হবে। ২০২৯ সাল বেশি দূরে নয়। সেটা মাথায় রাখা উচিত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ