


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: প্রার্থী তালিকায় যুববাহিনীর বহর দেখে উল্লসিত উত্তর শহরতলির বাম নেতা-কর্মীরা। সোমবার সন্ধ্যা থেকে মিছিল, ছোটো ছোটো কর্মিসভা ও দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। ছাত্র ও যুব আন্দোলন করে উঠে আসা দলের জনপ্রিয় মুখ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন বর্ষীয়ান বাম নেতৃত্বও। সান্ধ্যকালীন চায়ের ঠেকেও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির যুব প্রার্থীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের ‘ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া’ নতুন আশা তৈরি করছে। সিপিএম নেতৃত্বের আশা, ধসে যাওয়া ভোটব্যাংক পুনরুদ্ধার হবে। বহু আসনে সরাসরি লড়াই হবে তৃণমূলের সঙ্গে।
বরানগরে প্রার্থী হয়েছেন রাজ্য কমিটির সদস্য সায়নদীপ মিত্র। কামারহাটির বাসিন্দা সায়নদীপ যুব মুখ হিসাবে গ্রহণযোগ্য। বরানগরকে হাতের তালুর মত চেনেন। বরানগরে সিপিএমের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। ২০২৪ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছিলেন তন্ময় ভট্টাচার্য। তিনি ২৬ হাজার ৭৩৫ ভোট পেয়েছিলেন। সিপিএম সূত্রের খবর, দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে ভূমিপুত্র হয়েও আশাপ্রদ ভোট পাননি তন্ময়বাবু। বিরোধী গোষ্ঠীর ভোট গিয়েছিল গেরুয়া শিবিরে। কিন্তু সায়নদীপ প্রার্থী হওয়ায় দ্বন্দ্বের অবসান হবে। তারই আভাস পাওয়া গিয়েছে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই। এদিন সন্ধ্যায় বরানগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বনহুগলিতে জনসংযোগ যাত্রা ও দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করা হয়েছে। তাতে সিপিএম নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
বাম জমানায় সিপিএমের গড় ছিল উত্তর দমদম। ২০১৬ সালে সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্য জয়লাভও করেছিলেন। ২০২১ সালে তন্ময়বাবুকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। গত কয়েক বছরে আরও রুগ্ন হয়েছে বামেরা। বামেদের বহু ভোট গেরুয়া শিবিরে ঝুঁকেছে। কিন্তু লড়াকু ও নতুন মুখ দীপ্সিতা ধরের নাম ঘোষণা হওয়ায় বাম নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বসিত। অনেকেই বলছেন, দীপ্সিতা প্রার্থী হওয়ায় এবার আর বিজেপি নয় তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি টক্কর হবে সিপিএমের। কামারহাটির ক্ষেত্রেও প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা মানস মুখোপাধ্যায়কে প্রার্থী করে বড়ো চমক দিয়েছে সিপিএম। গতবার এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন সায়নদীপ। তখন মানসবাবুর বহু অনুগামী দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেননি বলে অভিযোগ। সেই সুযোগে বিজেপি প্রার্থী কিছুটা ভোট বাড়িয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার বর্ষীয়ান মানসবাবু প্রার্থী হওয়ায় সিপিএমের হারানো ভোটব্যাংক ফিরে পাওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ছাত্র ও যুব রাজনীতি করে উঠে আসা দেবজ্যোতি দাসকে খড়দহে, কলতান দাসগুপ্তকে পানিহাটিতে ও ময়ূখ বিশ্বাসকে দমদমে প্রার্থী করায় খুশি দলের নেতা-কর্মীরা। এদিন সায়নদীপ মিত্র বলেন, উত্তর শহরতলিতে নাগরিক পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। সীমাহীন দুর্নীতি, স্বজনপোষন, ধর্মীয় মেরুকরণে সাধারণ মানুষ বীতশ্রদ্ধ। আমরা বাড়ি বাড়ি পৌঁছব। মানুষের হাতে তথ্য তুলে দিয়ে সবার মুখোশ খুলে দেব। প্রথম দিনই সাধারণ মানুষের সাড়া দেখে আমরা উচ্ছ্বসিত।