তিরুবনন্তপুরম: দশ বছর পর হাতছাড়া হয়েছে ক্ষমতা। কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের কাছে হার হজম করতে হয়েছে বাম জোট এলডিএফ-কে। বিপর্যয়ের রেশ এখনও কাটেনি। তবে তারই মধ্যে বিধানসভায় উপ বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে বাম শরিকদের মধ্যে কাজিয়া শুরু হয়েছে। বড়ো শরিক সিপিএম ও মেজো শরিক সিপিআই— উপ বিরোধী দলনেতার পদ পেতে মরিয়া দুই দলই।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসাবে সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রবীণ সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়নকে ইতিমধ্যেই নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু কে হবেন উপ বিরোধী দলনেতা? সিপিএম চাইছে অতীতের পরম্পরা মেনে এবারও এই পদ তাদের কাছেই থাকুক। কারণ, সিপিএম নেতা ভি এস অচ্যুতানন্দন যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন ডেপুটি লিডারের পদও ছিল সিপিএমের হাতে। যদিও এবার শরিক সিপিআই উপ বিরোধী দলনেতার পদ সিপিএমকে ছাড়তে নারাজ। তাদের বক্তব্য, বাম জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে ওই পদ তাদের প্রাপ্য। কেরল সিপিআই চাইছে, বিষয়টি নিয়ে সিপিএমের সঙ্গে আলোচনায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করুক। ফলে উপ বিরোধী দলনেতা পদের দাবিতে দুই বাম দলই অনড়। এই অবস্থায় শনিবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এই ইস্যুটি আলোচনায় উঠতে পারে বলে খবর। বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই দলের বিভিন্ন স্তরে বৈঠক শুরু করেছে সিপিএম। জেলা ও আঞ্চলিক কমিটিগুলির বৈঠকে ঝড় উঠছে। সেখানে একদল নেতা দলের রাজ্য সম্পাদকের ইস্তফার দাবি তোলেন। এমনকি বেশ কয়েকজন নেতা বিরোধী দলনেতার পদে বিজয়নের নামেও আপত্তি জানান বলে খবর। তারই মধ্যে উপ বিরোধী দলনেতার পদ পেতে শরিক সিপিআই মরিয়া হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে। এই অবস্থায় শনিবার রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক রয়েছে। রাজ্য কমিটির বৈঠক রয়েছে আগামী রবি ও সোমবার। এই বৈঠকগুলিতেও শরিক সিপিআইয়ের সঙ্গে উপ বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে টানাপোড়েনের ইস্যুতে আলোচনা হতে চলেছে বলেই খবর।