Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পার্টি সদস্যদের পরিবারেরই ভোট পাননি সিপিএম প্রার্থী! বিধানসভা ভিত্তিক পর্যালোচনা বৈঠক ৩১ মে

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রামের ভোট বামে ফেরানোর আশায় বুক বেঁধেছিল সিপিএম।

পার্টি সদস্যদের পরিবারেরই ভোট পাননি সিপিএম প্রার্থী! বিধানসভা ভিত্তিক পর্যালোচনা বৈঠক ৩১ মে
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রামের ভোট বামে ফেরানোর আশায় বুক বেঁধেছিল সিপিএম। ‘লাল ফেরাও হাল ফেরাও’ স্লোগান দিয়ে সিপিএম নেতারা বাঁকুড়ায় প্রচারে বাজিমাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ভোটের ফলাফল লালপার্টিকে নিরাশ করেছে। হারানো ভোট ফেরানো দূরের কথা, সিপিএমের সক্রিয় পার্টিকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অনেকে দলের প্রার্থীকে ভোট দেয়নি বলে বামেরা মনে করছেন। বিষয়টি নিয়ে সিপিএমের অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ব্লক ধরে ধরে সিপিএম নেতৃত্ব ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করছে। 

Advertisement

আগামী রবিবার জেলা সিপিএম কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে জেলা নেতৃত্ব ব্লক ভিত্তিক রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করবে। তবে ভোটের পর মুষড়ে পরা সিপিএম নেতৃত্বকে ফলতা পুনর্নির্বাচনের ফল অনেকটাই অক্সিজেন দিয়েছে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিপিএমের একটি এরিয়া কমিটির সম্পাদক বলেন, পার্টি সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বাইরেও আমাদের দলের অনেক সমর্থক রয়েছেন। ফলে প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে শুধু পার্টি সদস্যদের হিসাব মিলিয়ে দিলে সরলীকরণ হবে। এবার অনেক সক্রিয় পার্টি কর্মী ও এজি সদস্য আমাদের ভোট দেননি। বাম কর্মচারী সংগঠনের সদস্যরাও বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। পোস্টাল ব্যালট গণনার পর তা বোঝা গিয়েছে। বাঁকুড়া বিধানসভায় আমরা ইভিএমে ৯৪৫৪ ভোট, পোস্টাল ব্যালটে ২৪৮ ভোট পেয়েছি। অথচ বাঁকুড়ায় আমাদের শক্তিশালী সংগঠন ও মজবুত সরকারি কর্মী ইউনিয়ন রয়েছে। তবে আগামী দিনে বিজেপি বিরোধী ভোট আমাদের দিকেই ঝুঁকবে। ফলতার ফল সেই আভাস দিয়েছে।     
সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য অজিত পতি বলেন, বাঁকুড়ার ১২টি বিধানসভায় আমরা এক লক্ষের বেশি ভোট পেয়েছি। জেলায় মোট প্রাপ্ত ভোটের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পার্টি কর্মী রয়েছেন। ফলে সক্রিয় পার্টি কর্মী বা তাঁদের পরিবারের লোক দলের প্রার্থীদের ভোট দেননি, এমন বলা ঠিক হবে না। আমরা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করছি। তা সম্পূর্ণ হলে এব্যাপারে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।
একদা লালদুর্গ বাঁকুড়ায় সিপিএম বর্তমানে ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দেওয়াটা  দলের ‘ঐতিহাসিক’ ভুল বলে সিপিএমের অনেকে মনে করছেন। ওই সময় জেলায় কংগ্রেসের দুই শতাংশ ভোটও ছিল না। লালাপার্টির জোরে ভোটে জেতার পর কংগ্রেস বিধায়করা সিপিএমের মুখে ঝামা ঘষে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর থেকে আর জেলায় সিপিএম ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এবারের ভোটের আগে আগমার্কা সিপিএম পরিবারের সদস্যদেরও বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আগে রাম, পরে বাম’। তাঁদের মতে, তৃণমূলকে হারাতে পারবে একমাত্র বিজেপি। ফলে এখন নীতি, আদর্শ নিয়ে বসে থাকলে হবে না। আগে রাজ্য থেকে তৃণমূলকে হটাতে হবে। পরে বিজেপি-র বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, মানুষের প্রতিষ্ঠান বিরোধী ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ফের রাজ্যে সিপিএমের সুদিন ফেরানো যাবে।

সম্পর্কিত সংবাদ